ওয়াশিংটন: ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নির্দেশে বিপাকে পড়েছেন ভারতীয় পড়ুয়ারা। ভিসা বাতিল হওয়ার জেরে পড়াশোনা শেষ না করেই দেশে ফিরতে হয়েছে অনেককেই। বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন অভিযোগে তা বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে। যা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে রীতিমতো ভর্ৎসনা করল মার্কিন ফেডারেল কোর্ট। শুধু তাই নয়, এক ভারতীয় পড়ুয়ার দেশে ফেরত পাঠানোর উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছে। এদিকে অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে স্বেচ্ছায় যাঁরা দেশে ফিরতে ইচ্ছুক, তাঁদের জন্য নয়া পরিকল্পনা ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তাঁদের হাতে নগদ অর্থ ও দেশে ফেরার বিমানের টিকিট দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, এই অভিবাসীদের মধ্যে যাঁরা কোনও অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নন, তাঁদের যত দ্রুত সম্ভব বৈধভাবে আমেরিকায় ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের।
ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা বাতিলের কোপে পড়েন ভারতীয় ছাত্র কৃষলাল ইসেরদাশানি। ২১ বছরের কৃষলাল ২০২১ সাল থেকে এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসায় উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা করছেন। গত ৪ এপ্রিল তিনি জানতে পারেন, স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম (এসইভিআইএস) থেকে তাঁর যাবতীয় তথ্য উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও ইমেল করে ভিসা বাতিলের বিষয়টি তাঁকে জানায়। অর্থাৎ পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে দেশে ফিরে আসতে হবে। অথচ আগামী মে মাসে তাঁর কোর্স শেষ হওয়ার কথা। ফলে চরম বিপাকে পড়েন ওই পড়ুয়া। অবশেষে উইসকনসিনের জেলা আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালতে কৃষলাল অবশ্য পুরনো একটি মামলার কথা স্বীকার করেছেন। ২০২৪ সালের ২২ নভেম্বরে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিস। গভীর রাতে পার্টি করে ফেরার পথে তিনি ও বন্ধুরা মিলে একদল যুবকের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি আদালত। তাঁর ভিসা বাতিলের সঙ্গে ওই ঘটনার মিল পাচ্ছেন অনেকে। জেলা আদালতের বিচারক উইলিয়াম কোনলি অবশ্য ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেন। ইতিমধ্যে ভারতীয় সহ অন্তত ১৩০০ জন বিদেশি পড়ুয়ার ভিসা বাতিল করা হয়েছে।