নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: সাইবার প্রতারণার লুট করা টাকা নিরাপদে রাখতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভাড়ায় নেয় প্রতারকরা। কলকাতায় এই ধরনের কয়েকশো অ্যাকাউন্টের হদিশ পেয়েছে পুলিস। এমনকী মার্কিন মুলুকের নাগরিকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলতে, সেখানকার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও ভাড়া নিয়েছিল সাইবার প্রতারকরা। কলকাতা বিমানবন্দর লাগোয়া নারায়ণপুর থানা এলাকা থেকে একটি কল সেন্টার চক্রের তদন্তে নেমে এহেন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেলেন গোয়েন্দারা। প্রতারণার সেই অর্থ হাওলা রুটে ভারতে আসত। প্রসঙ্গত, গত ৮ মার্চ নারায়ণপুর থানার পুলিস একটি ফ্ল্যাটে হানা দিয়ে আন্তর্জাতিক কল সেন্টার চক্রের হদিশ পায়। সেখান থেকে ৫ জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। ওই ঘটনার তদন্তেই উঠে এসেছে এই নয়া তথ্য।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতরা একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে মার্কিন নাগরিকদের প্রতারণা করত। প্রযুক্তিগত সহায়তার নামে তারা বিভিন্ন নাগরিককে ফাঁদে ফেলত। তবে, মার্কিন নাগরিকদের লুট করা টাকা সঙ্গে সঙ্গে ভারতে আসত না। প্রতারক চক্রের সদস্যরা আমেরিকাতেও সেখানকার নাগরিকদের বহু অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিয়ে রেখেছিল। ওই অ্যাকাউন্টে প্রথমে টাকা জমা হতো। তারপর হাওলার মাধ্যমে কলকাতায় তা আসত। লুট করা মার্কিন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় বিনিময়ও হতো হাওলায়। এই চক্র এখনও পর্যন্ত ঠিক কত কোটি টাকার লেনদেন করেছে, পুলিস তার তথ্য সংগ্রহ করার কাজ শুরু করেছে।
জানা গিয়েছে, এরাজ্য সহ ভারতে অ্যাকাউন্ট ভাড়া নতুন নয়। তবে, মার্কিন মুলুকে অ্যাকাউন্ট ভাড়া, বড় চক্রেরই উদাহরণ। গত জানুয়ারি মাসেই কলকাতায় ৫০০ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিশ পেয়েছিল বিধাননগর কমিশনারেট। তিনজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়। মানুষকে টাকার লোভ দেখিয়ে তারা ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট তৈরি করত। বেশি টাকা লেনদেন করা অর্থাৎ, হাই ভ্যালু ট্রানজাকশনের জন্য বিভিন্ন কোম্পানির নামে ওই অ্যাকাউন্টগুলি খোলা হয়েছিল। তাতে ডিজিটাল অ্যারেস্ট, কেওয়াইসি আপডেট, ইনভেস্টমেন্ট ফ্রড সহ বিভিন্ন ধরনের সাইবার প্রতারণার টাকা রাখা হতো। প্রতারণার টাকা লেনদেন করার জন্য ধৃতরা ১.৫ থেকে ২ শতাংশ কমিশনে অ্যাকাউন্টগুলি ভাড়া দিত। প্রতারকরা মার্কিন মুলুকে যে অ্যাকাউন্টগুলি ভাড়া নিত, সেগুলির কমিশন কত থাকত, কীভাবে খোলা হতো, তা এখনও জানা যায়নি। ধৃতদের জেরা করে তার খোঁজ করছে পুলিস। সেই সঙ্গে হাওলা রুটের উৎস সন্ধানও চলছে।