নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ভোট এলেই নিজেদের পায়ে কুড়ুল মারার অভ্যাস থেকে বেরতে চাইছে কাঁথির তৃণমূল নেতৃত্ব। নেতাদের মধ্যে পরস্পরের রেষারেষি থেকেই কর্মীরা একটা বড় অংশ অন্তর্ঘাতে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। ২০২১সালের বিধানসভা থেকে ২০২৪সালে লোকসভা ভোটে খারাপ ফলাফলের ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে কারণ হিসেবে অন্তর্ঘাত আর গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রোগ ধরা পড়েছে। ২০২৬সালে বিধানসভা ভোটে সেই একই ভুল আর করতে চায় না কাঁথির তৃণমূল। বরং একই সারিতে হাঁটার অঙ্গীকার করলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক ও কাঁথি পুরসভার চেয়ারম্যান সুপ্রকাশ গিরি। চারদিন আগে কাঁথি শহরে দীঘা বাইপাশে এক দলীয় কার্যালয়ে তাঁরা মুখোমুখি হয়ে এই নির্বাচনে একযোগে চলার শপথ নেন। সেইমতো রবিবার শহরে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে মিছিলের সামনে হাত ধরাধরি করে হাঁটলেন উত্তম ও সুপ্রকাশ। এই দৃশ্য দেখে খুশি তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা।
কয়েকদিনের মধ্যেই ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হয়ে যাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে কোন বিধানসভায় কে প্রার্থী হবেন তা নিয়ে জল্পনার শেষ নেই। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মধ্যে নন্দীগ্রামের মতো কাঁথি দক্ষিণ বিধানসভাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ২০২১সালে কাঁথি উত্তর ও কাঁথি দক্ষিণ দু’টি বিধানসভা আসন হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূলের। ২০২৪সালে লোকসভা নির্বাচনেও তমলুকের সঙ্গে কাঁথি লোকসভা হাতছাড়া হয়েছে। নির্বাচনী লড়াইয়ে দলের মধ্যে ঐক্য ও সমন্বয়ের অভাব ছিল। ময়নাতদন্তে সেটা জোরালোভাবে উঠে এসেছে। এই ঘটনায় দলের ক্ষতি হচ্ছে। তার চেয়েও বড় কথা, সর্বোচ্চ নেতৃত্বের কাছে নেতাদের সম্পর্কে বিরূপ রিপোর্ট যাচ্ছে। তাই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার একযোগে চলার শপথ নিয়েছেন নেতারা। তাতে কর্মীরা আরও উৎসাহ পাবেন। চাঙ্গাও হবেন বলে নেতৃত্ব মনে করছে।
অন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে রবিবার বিকালে কাঁথি শহরে পুরনো আউটডোর থেকে ক্যানালপাড় পর্যন্ত মিছিল হয়। মিছিলের সামনে পাশাপাশি হাত ধরে হেঁটেছেন উত্তম ও সুপ্রকাশ। একই সারিতে ছিলেন আব্দুস সাত্তার আমিন সোহেলের মতো নেতৃত্ব। তাঁদের পাশাপাশি হাঁটতে দেখে ভোটের মুখে সাধারণ কর্মীরাও তুমুল উজ্জীবিত হন। মহিলা নেত্রী ইলা মান্না, তানিয়া জানা ও শ্রাবণী পাল সহ আরও অনেকে মিছিলে ছিলেন।
জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক বলেন, ২০২১সালে কাঁথির মানুষ বিজেপির বিধায়ক নির্বাচিত করেছিলেন। এখন মানুষ বুঝতে পারছেন, সেদিন বড় ভুল করেছে। কারণ, বিজেপি বিধায়ক গত পাঁচ বছরে কাঁথি শহর ও সংলগ্ন পঞ্চায়েত এলাকায় ছিঁটেফোঁটা উন্নয়ন করতে পারেননি। উল্টোদিকে আমরা কাঁথির মানুষের রায়ে পরাজিত হলেও মুখ্যমন্ত্রী সার্বিক এলাকার সঙ্গে কাঁথির উন্নয়নও অব্যাহত রেখেছেন। এই ভোটে দক্ষিণ কাঁথি থেকে উত্তর কাঁথি এবং গোটা পূর্ব মেদিনীপুর থেকে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে বিদায় জানাবেন আমাদের মায়েরা। এই মায়েদের হাত ধরেই চতুর্থবারের জন্য নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সুপ্রকাশ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ২৪ঘণ্টা মানুষের জন্য কাজ করে চলেছেন। তিনি কখনও মাথা নিচু করেননি। শিরদাঁড়া কখনও বিক্রি করেননি। সিপিএমের বিরুদ্ধে লাগাতার লড়াই সংগ্রহ করেছেন। তাদের তাড়ানোর পর আজ আরেকটি শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে। পদে পদে বাধা দিচ্ছে বিজেপি। কখনও ইডি, আবার কখনও সিবিআই কখনও ইনকাম ট্যাক্স লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সব বাধা কাটিয়ে চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। কাঁথিতে মিছিলে পাশাপাশি উত্তম বারিক ও সুপ্রকাশ গিরি।-নিজস্ব চিত্র