


সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: প্রচারে বেরিয়ে কোনো প্রার্থী ঢুকে পড়ছেন গৃহস্থের হেঁসেলে। ঢুকে রান্না করে দিচ্ছেন। আবার কোনো প্রার্থী সেলুনে ঢুকে দিচ্ছেন চুল-দাড়ি কেটে। কোনো প্রার্থী জমিতে নেমে কৃষকের সঙ্গে চাষের কাজে হাত লাগাচ্ছেন। কেউ আবার ঢালাই মিস্ত্রির কাজে সাহায্য করতে মাথায় মশলা নিয়ে মেশিনে ঢালছেন। কেউ রুটি বেলছেন, কেউ ভাঁড় বানাচ্ছেন, সবমিলিয়ে সর্বঘটে কাঁঠালি কলার ভূমিকা একাধিক প্রার্থীর।
প্রচারে বেরিয়ে প্রার্থীদের এইসব কাজে সক্রিয় যোগদান নতুন মাত্রা যোগ করছে। আর এসব দেখে ভোটারদের একাংশ বলেন, ‘এটা হল ভোটের হাওয়া।’ অন্য অংশ বলছেন, ‘যাই বলুন, খুব কালারফুল।’ উলুবেড়িয়ার মহাদেবপুরের বাসিন্দা পতিতপাবন মান্না দীর্ঘদিন ধরে ভোট দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আগে এই ধরনের প্রচার করতে দেখিনি। এবার প্রথম দেখছি। জানি না আর কত কিছু দেখতে হবে!’ নরোত্তম হাজরা নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘এবার দেখছি মানুষের মনের আরও কাছাকাছি পৌঁছনোর চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা।’
কথায় বলে ভোট বড়ো বালাই। ভোট ঘোষণার পর প্রচারে নেমে পড়েছেন প্রার্থীরা। সকাল থেকে রাত, পাড়ায় পাড়ায় ঘুরছেন। প্রচারের চিরাচরিত রীতি হল, হাতজোড় করে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা। তার পরিবর্তে এবার অনেক প্রার্থীই ভোটারদের দৈনন্দিন কাজে হাত লাগিয়ে সাহায্য করার চেষ্টা করছেন। প্রচারের এই নয়া কৌশল নতুন মাত্রা জোগাচ্ছে সর্বত্র। প্রচারে বেরিয়ে প্রার্থীদের এই অতিরিক্ত সক্রিয়তা ভোটাররা বেশ উপভোগ করছে। তবে বলতেও ছাড়ছে না, ‘এই ধরনের প্রচার হল নিছক তামাশা।’ রাজনৈতিক দলগুলি একে অপরকে টেক্কা দিয়ে যেমন পারছেন তেমন প্রচার করছেন। প্রচারে বেরিযে শিশুকে আদর করা, গুরুজনদের আর্শীবাদ নেওয়া, চায়ের দোকানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বসে চায়ে চুমুক দেওয়া বা শিশুদের সঙ্গে ক্রিকেট, ফুটবল খেলা এটাই বাংলার প্রচারের সাধারণ চিত্র। তবে এবার এইসব ছবিকে টেক্কা দিচ্ছে প্রচারে বেরিয়ে হেঁশেলের কাজ করে দেওয়া।
উলুবেড়িয়া আনন্দ ভবন ডেফ অ্যান্ড ব্লাইন্ড স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজয় দাস বলেন, ‘নিছক তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়। এর কোনো প্রভাব ভোটে পড়ে না। যদি মানুষের পাশে থাকতে হয় তাহলে ৫ বছর থাকতে হবে। এভাবে কয়েকদিনের জন্য থেকে কিছু হবে না। এটা ভোটাররা ভালোই বোঝেন।’ ইংলিশ চ্যানেল জয়ী সাঁতারু তাহরিনা নাসরিনের বক্তব্য, ‘এটা দেখানো ছাড়া আর কিছুই নয়। যে ভালো কাজ করবে তাকে মানুষ এমনিতেই ভোট দেবে।’