


অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: যুদ্ধ শেষ হয়নি এখনও। চোখের সামনে ‘শত্রু দেশ’! কিন্তু এখানে বারুদের গন্ধ নেই। ড্রোনের বদলে হাওয়ায় উড়ছে নতুন বইয়ের গন্ধ। শব্দ, অক্ষরের প্রেমে লক্ষ মানুষের ভিড়। এক অন্য অনুভূতি। অন্য স্বাদ। প্রথমবার কলকাতা বইমেলায় এসেই আপ্লুত ইউক্রেন। তাদের স্টলের অদূরেই রাশিয়ার স্টল। তাতে কী? ইউক্রেনও মেতে বইমেলায়। তাই স্টলের বাইরে ‘তারাস শেভচেঙ্কো’র কবিতার—‘চলে যায় দিন, চলে যায় রাত...’ লাইন। সামনের বছর কলকাতা বইমেলার ৫০ বছর। সুবর্ণজয়ন্তী। ইউক্রেন গিল্ডকে জানিয়ে দিয়েছে, পরেরবার তারা ফের আসবে। শুধু তাই নয়, অন্যান্য দেশকেও নিয়ে আসতে চায় । ইউক্রেনের এই আবেদনে আপ্লুত গিল্ড।
প্রায় ৪ বছর কেটে গিয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন এখনও যুদ্ধের ময়দানে। দুই দেশ এবার কলকাতা বইমেলায় মুখোমুখি হয়েছিল। বইয়ের মুখোমুখি, পাঠকদের মুখোমুখি। আমেরিকা হাজির না হলেও ২০১১ সালের পর এসেছিল চীন। গিল্ডের কথায়, এর আগে ইউক্রেন আসেনি। প্রথমবার এসেছে তারা। আকারে ছোট হলেও স্টল সাজিয়েছিল নিজেদের দেশের জিনিসপত্র দিয়ে। বিক্রির জন্য ছিল নানা ধরনের বই। উৎসাহী পাঠকরা ভিড় জমিয়েছিল ইউক্রেনে। স্টলে বাংলা ভাষায় অনুবাদ সাহিত্যও রাখা হয়েছিল। ভালোবেসে বইয়ের পাতা উল্টে দেখেছেন বহু মানুষ। বইপ্রেমীদের ভালোবাসায় ইউক্রেন উচ্ছ্বসিত।
বইমেলায় ফি বছর ভিড় বাড়ছে। প্রতিবার পুরনো রেকর্ড ভেঙে গড়ছে নতুন রেকর্ড। বইপ্রেমীদের ভিড়ে বাড়ছে বই কেনার পরিসংখ্যানও। গতবছর বইমেলায় ২৭ লক্ষ মানুষ হাজির হয়েছিলেন। বই বিক্রি হয়েছিল ২৩ কোটি টাকার। গিল্ডের হিসেব অনুযায়ী, এবার ৩২ লক্ষ মানুষ হাজির হয়েছিল। বই বিক্রি হয়েছে প্রায় ২৭ কোটি টাকার। গতবারের তুলনায় এবার ভিড় ও বিক্রি বেড়েছে ১৫ শতাংশ। এবার ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় ফোকাল থিম কান্ট্রি ছিল আর্জেন্তিনা। সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে কোন দেশ ফোকাল থিম কান্ট্রি হবে তা এখনও ঘোষণা হয়নি। ইউক্রেনের এই উৎসাহে খুশি পাবলিসার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ড।
গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় এবং সভাপতি সুধাংশুশেখর দে বলেন, ইউক্রেন প্রথমবার এসে খুবই খুশি। ওরা আমাদের জানিয়ে দিয়েছে, পরেরবার আবার আসবে। কিছু দেশকে তারা সঙ্গে নিয়ে আসতে চায়। সেই সঙ্গে চীনও আমাদের জানিয়েছে, তারাও সামনের বছর অংশগ্রহণ করবে। এটা আমাদের প্রাপ্তি।