


সংবাদদাতা, বনগাঁ: এ যেন সেই এক ফুল দো মালি! প্রেমিক একজনই। তিনি আবার বিবাহিত। কিন্তু তাঁকে নিয়েই ভালোবাসার ঠান্ডা লড়াই দুই জা’য়ের। দীর্ঘদিন ধরে চলছিল এই পর্ব। ওই প্রেমিকের সঙ্গে আগে দু’বার পালিয়েছেন বড় জা। ছোট জা আরও এককদম এগিয়ে। তিনি পালিয়েছেন তিনবার। ওই প্রেমিককে সঙ্গে নিয়েই। তবে প্রতিবার তাঁদের ফিরিয়ে এনেছিল পরিবার। তাই এবার আর আলাদা নয়, ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে বাড়ি ছাড়লেন দুই জা! সেটাও আবার গোটা পরিবারকে চায়ের সাথে মাদক খাইয়ে বেহুঁশ করে। সোমবার এমনই আজব ঘটনা ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা থানা এলাকার মালিদা গ্রামে। থানার দ্বারস্থ হয়েছে দুই জা’য়ের পরিবার। প্রেমিক যুবকের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেছেন তাঁর স্ত্রীও।
মালিদা গ্রামের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা দুই ভাই ইয়াসিন শেখ ও আনিসুর শেখ। এলাকার একটি গ্যারেজ রয়েছে আনিসুরের। দাদা ইয়াসিন বিদেশে থাকেন। তাঁদের স্ত্রী কুলচান মল্লিক ও নাজমা মণ্ডল। এই দুই জায়ের সঙ্গেই গ্রামের বাসিন্দা আরিফ মোল্লার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সোমবার সন্ধ্যায় আনিসুর গ্যারেজ থেকে বাড়ি ফিরে দেখতে পান বাবা-মা ও তিন মেয়ে অচৈতন্য হয়ে পড়ে রয়েছে। বাড়িতে নেই স্ত্রী, বৌদি ও ছোট মেয়ে। বাবা-মা ও তিন মেয়েকে বাগদা গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করেন আনিসুর। মঙ্গলবার সকালে জ্ঞান ফিরলে বাবা-মা পুরো ঘটনার কথা জানান। জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় আরিফ তাঁদের বাড়িতে এসে দুই বউয়ের কাছে কিছু একটা দিয়ে গিয়েছিল। তারপরেই চা বানিয়ে শ্বশুর-শাশুড়ি ও বাচ্চাদের দিয়েছিল দুই বউ। তা খাওয়ার পরেই সকলে বেহুঁশ হয়ে পড়ে। সেই সুযোগে ছোট মেয়েকে নিয়ে আরিফের সঙ্গে পালিয়ে যায় বাড়ির দুই বউ। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার বাগদা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আনিসুর শেখ। আনিসুর বলেন, ‘আরিফ মোল্লার সঙ্গে আমার স্ত্রী ও বৌদির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। চায়ের সাথে মাদক খাইয়ে বৌদি ও আমার স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়েছে সে।’ আগেও বাড়ির বড় বউ ও ছোট বউকে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল আরিফ মোল্লা। বাড়িতে ছোট বাচ্চাদের কথা ভেবে ফেরত নিয়ে আসা হয়েছিল তাঁদের। আরিফের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছে আনিসুর এবং তাঁর বাবা-মা।
আরিফ বিবাহিত। ঘরে স্ত্রী ছাড়াও দুই সন্তান রয়েছে তাঁর। স্বামীর সাথে ওই দুই বউয়ের প্রেমের সম্পর্কের কথা জানতেন পত্নী সোনিয়া। নিজের সংসারের কথা ভেবে এতদিন কিছু বলেননি। কিন্তু দুই প্রেমিকাকে নিয়ে পালিয়ে হওয়ায় স্বামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি। সোনিয়া বলেন, ‘আরিফ এবং ওই দুই বউয়ের শাস্তি হোক। আমার এবং বাচ্চাদের দায়িত্ব ওকেই নিতে হবে।’ বাগদা থানার পুলিসের অনুমান, এই ঘটনায় আরও এক যুবকের যোগ থাকতে পারে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।