ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: জ্ঞান, বুদ্ধি আর আতিথেয়তার কারণে বাঙালির সর্বত্র সমাদর। আর দেশের মধ্যে দক্ষিণের শহরগুলির ক্ষেত্রে আমরা সকলেই জানি, শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে তাদের জুড়ি মেলা ভার। এমনই শহর বেঙ্গালুরু এখন বাঙালিদের আর এক ঘাঁটি। পুজোর সময় সেই শহরে কমবেশি কলকাতার মতোই উৎসবের আমেজ থাকে তুঙ্গে। সেখানে পুজো করে বিভিন্ন বাঙালি সংগঠন। তার মধ্যে একটি হল ‘নর্থ বেঙ্গালুরু কালচারাল সমিতি’। শহরের উত্তরে নন্দিনী লে আউটে প্রথম কয়েকজন প্রবাসী বাঙালির প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছিল এই ক্লাব। ধীরে ধীরে বহরে বেড়ে আজ ৪৮ বর্ষের পুজোয় পা দিতে চলেছে সমিতি। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে দুই অক্টোবর পর্যন্ত নাগাপুরা মহালক্ষ্মীপুরম হিন্দু সাদারা ক্ষেমাবিভ্রুধি সংঘ প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয়েছে এই উৎসবের। শিল্পী তরুণ পালের হাতে তৈরি সাবেকি ঢঙের ডাকের সাজের প্রতিমা। পাশাপাশি মণ্ডপসজ্জাতেও রয়েছে অভিনবত্ব। দাবার বোর্ডের আদলে তৈরি প্যান্ডেল মনে করিয়ে দেবে চৌষট যোগীনী মন্দিরের কথা। পুজোর ক’টা দিন থাকছে নানা ধরনের অনুষ্ঠান। এলাকার যুব গ্র্যান্ড মাস্টারদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি চলছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া পঞ্চমীতে আনন্দমেলা আর ষষ্ঠীতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লাইট-সাউন্ড-লেজার শো এই পুজোর বিশেষ আকর্ষণ। সপ্তাহব্যাপী এই উৎসবে চলবে ডান্ডিয়া নাচ থেকে শুরু করে গান, আবৃত্তি, নাটক ও নবমীতে ধুনুচি নাচ। সান্ধ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সকালেও রয়েছে নানা বয়সের মানুষের জন্য প্রতিযোগিতা। পুজো প্রাঙ্গণে থাকছে শাড়ি, গয়না, হাতে তৈরি বিভিন্ন খাবার ও শিল্পকর্মের স্টল। ক্লাবের অন্যতম কর্মকর্তা কল্যাণ পাঠক জানালেন, সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী তিনদিনই কমিটির তরফে ভোগ প্রসাদের আয়োজন করা হয়। প্রতিদিনই অন্তত তিন হাজার মানুষ মধ্যাহ্নভোজ করেন।



