Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ট্রেনে কাটা, পোস্টে ধাক্কা, বিধাননগর-দমদম স্টেশনের মাঝে মৃত ২

ভরদুপুরে রেললাইনে জোড়া মৃত্যু! অবৈধভাবে লাইন পারাপার করতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয় এক ব্যক্তির। তাঁর নাম বিশ্বজিৎ দাস (৫০)।

ট্রেনে কাটা, পোস্টে ধাক্কা, বিধাননগর-দমদম স্টেশনের মাঝে মৃত ২
  • ২৮ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভরদুপুরে রেললাইনে জোড়া মৃত্যু! অবৈধভাবে লাইন পারাপার করতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয় এক ব্যক্তির। তাঁর নাম বিশ্বজিৎ দাস (৫০)। উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর থানা এলাকার বাসিন্দা তিনি। লাইনের পাশে পড়ে থাকা নিথর দেহ ভালোভাবে দেখার জন্য চলন্ত ট্রেন থেকে ঝুঁকে পড়েন এক অতি উৎসাহী যাত্রী। দুই ট্র্যাকের মাঝে সিগন্যাল পোস্টে ধাক্কা খায় তাঁর মাথা। ট্রেন থেকে ছিটকে পড়েন তিনি। মৃত্যু হয় মর্মান্তিকভাবে। রাত পর্যন্ত তাঁর পরিচয় জানা যায়নি। সোমবার বিধাননগর ও দমদম স্টেশনের মাঝে এই ঘটনা ঘটে। কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় শিয়ালদহ জিআরপি। দু’টি মৃতদেহ উদ্ধার করার পাশাপাশি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে শিয়ালদহ জিআরপি। 

Advertisement

সূত্রের খবর, এদিন বেলা ২.৩০টে নাগাদ বিশ্বজিৎ দাস এক নম্বর লাইন থেকে তিন নম্বর লাইনের দিকে যেতে চাইছিলেন। সেই সময় এক নম্বর দিয়ে একটি ট্রেন আসছিল। তা দেখে দ্রুত লাইন টপকে পেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তাতেই ঘটে বিপত্তি। আপ লাইনের ট্রেন তাঁকে ধাক্কা মেরে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এই ঘটনা দেখে স্থানীয় লোকজন সেখানে ছুটে যান। ক্ষতবিক্ষত দেহ লাইনের মাঝে পড়েছিল। সেই সময় ৩ নম্বর লাইন দিয়ে আপ বনগাঁ লোকাল যাচ্ছিল। একটি দেহ পড়ে থাকতে দেখে বনগাঁ লোকালের এক যাত্রী চলন্ত ট্রেনের দরজা থেকে মাথা বের করে ভালোভাবে বিষয়টি বুঝতে চাইছিলেন। তখনই তাঁর মাথা ঠোক্কর খায় সিগন্যাল পোস্টে। ট্রেন থেকে ছিটকে পড়ে মৃত্যু হয় তাঁর। 
স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়ে প্রথমে ঘটনাস্থলে যায় লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আরপিএফ। সেই সূত্রেই খবর যায় শিয়ালদহ জিআরপির অধীনস্থ উল্টোডাঙা আউটপোস্টে। ট্রেনের ধাক্কায় মৃত ব্যক্তির পাশে একটি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন উর্দিধারীরা। সেখান থেকে মৃতের আধার কার্ড পাওয়া যায়। ফলে মৃতের পরিচয় জানতে বেগ পেতে হয়নি পুলিশকে। ব্যাগ থেকে পাওয়া যায় বিশ্বজিৎবাবুর মোবাইল ফোনও। সেটি দিয়েই তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে রেল পুলিশ। এভাবে মৃতের পরিচয় নিশ্চিত হয়। পরিবার সূত্রে খবর, বিশ্বজিৎবাবু পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। এদিন সকালে কলকাতায় এসেছিলেন কাজের জন্যই। সেই কাজ সেরে বাড়ির ফেরার পথেই এই ঘটনা ঘটে বলে অনুমান পুলিশের। অন্যদিকে, সিগন্যাল পোস্টের ধাক্কায় মৃত ব্যক্তির পরিচয় রাত পর্যন্ত স্পষ্ট হয়নি। তাঁর থেকে কোনও মোবাইল বা পরিচয়পত্রও পাওয়া যায়নি। 

সম্পর্কিত সংবাদ