


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘স্পুটাম’ বা সন্দেহজনক রোগীর লালারস দিলে কিছুক্ষণের মধ্যে জানা সম্ভব রোগীর যক্ষ্মা আছে কি নেই। আক্রান্ত হলে কিটের রং পাল্টে যাবে। না-হলে যেমন ছিল, থাকবে তেমনটাই। যুগান্তকারী এই আবিষ্কার করেছে দেশের অন্যতম সেরা প্রযুক্তিবিদ্যা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান খড়্গপুর আইআইটি।
গবেষণাটি ফসল দুই নামকরা বাঙালি বিজ্ঞানীর মেধা আর পরিশ্রমের। তাঁরা হলেন খড়্গপুর আইআইটির অধিকর্তা অধ্যাপক ডঃ সুমন চক্রবর্তী ও সংস্থার বায়োসায়েন্স ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডঃ অরিন্দম মণ্ডল। প্রকল্পটির সার্থকতা যাচাই করেছে চেন্নাইয়ে আইসিএমআর-এর অধীনস্থ যক্ষ্মার জাতীয় গবেষণাকেন্দ্র ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ ইন টিউবারকিউলোসিস (এনআইআরটি)। সেখানে ১০৫টি নমুনার উপর পরীক্ষা করে ১০০ শতাংশ সাফল্য মিলেছে। পরবর্তী বড়ো পরীক্ষা হয়েছে মুম্বইয়ের সফদরজং, পুনের পুরসভা অধীনস্থ একাধিক হাসপাতালে। সেখানে ১১৯টি নমুনার উপর পরীক্ষা করে মিলেছে প্রায় ৯৬ শতাংশ সাফল্য। চূড়ান্ত পর্যায়ের গবেষণার জন্য বাছা হয়েছে খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতাল ও হিজলি গ্রামীণ হাসপাতাল। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর তাতে অনুমোদন দিয়েছে। এখন স্বাস্থ্যভবনের চূড়ান্ত সম্মতির অপেক্ষায় খড়্গপুর আইআইটি।
বিজ্ঞানীমহল সূত্রের খবর, সরকারি হাসপাতাল বা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একসঙ্গে বহু মানুষের টিবি চিহ্নিতকরণে এটিকে কাজে লাগানো শুরু হলে দেশে টিবি মোকাবিলার কাজে জোয়ার আসবে। কারণ যক্ষ্মা চিহ্নিতকরণ হলে তবেই সম্ভব রোগীকে সরকারি বিধিবদ্ধ ৬ মাসের চিকিৎসার আওতায় আনা এবং শেষে ‘টিবি মুক্ত’ বলে ঘোষণা করা। সব মিলিয়ে রাজ্য তথা দেশ থেকে টিবি নিশ্চিহ্নকরণ করবার লক্ষ্যপূরণ অনেকটাই দ্রুত ও সহজ হবে। যা কিনা কেন্দ্র-রাজ্য দুই সরকারেরই পাখির চোখ।
প্রকল্পের অন্যতম গবেষক খড়্গপুর আইআইটির অধিকর্তা সুমনবাবু বলেন, আশা করছি এই আবিষ্কার জনস্বাস্থ্যে বিশেষ করে যক্ষ্মা নিশ্চিহ্নকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। সন্দেহজনক রোগীর থুতু এই কিটে দেওয়ার আধ ঘণ্টার মধ্যেই জানা যাবে ফল। প্রচলিত পদ্ধতির সঙ্গে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার হয়েছে এখানে। বাজারে এলে আনুমানিক খরচ কত পড়বে? ডঃ চক্রবর্তী বলেন, ১০০ টাকার মধ্যে। যত বেশি ব্যবহার হবে, খরচও তত কমবে। আরেক গবেষক অরিন্দমবাবু বলেন, এই পরীক্ষাটি করা হয় একটি মোবাইল ডিভাইসে। স্মার্টফোনের মাধ্যমে পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করা যায়। পশ্চিম মেদিনীপুরের হিজলি গ্রামীণ হাসপাতালে মোবাইল ডিভাইসটি বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে টিবি চিহ্নিতকরণে দুটি পরীক্ষা রয়েছে। অ্যাসিড ফাস্ট বেসিলাই (এএফবি) এবং সিবি ন্যাট পরীক্ষা। প্রথমটিতে থুতুর দুটি নমুনা সংগ্রহ করে এবং দ্বিতীয়টিতে থুতু অথবা সন্দেহজনক রোগীর লালারস সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। দুটিতেই পরীক্ষা একঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণ হয়ে গেলেও প্রথম পরীক্ষার রিপোর্ট আসতে সারাদিন লেগে যায়। র্যাপিড পরীক্ষা থাকলেও ২০১২ সালে তা নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল কেন্দ্র।