ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি: গত ২ এপ্রিল ভারত সহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশের উপর চড়া হারে ‘পাল্টা শুল্ক’ আরোপ করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এব্যাপারে ‘ঢাল’ করেছিলেন ১৯৭৭ সালের জরুরি ক্ষমতা সংক্রান্ত একটি আইনকে। কিন্তু দু’মাসের মধ্যেই ট্রাম্পের সেই পদক্ষেপ ধাক্কা খেল। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘রাজধর্মে’র পাঠ দিল খোদ তাঁর নিজের দেশের আদালতই। নিউ ইয়র্কের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংক্রান্ত এই মার্কিন আদালত ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ স্থগিত করে দিল। তিন বিচারক সাফ জানিয়ে দিলেন, আইনি এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে কাজ করেছেন ট্রাম্প। আইনসভায় আলোচনা না করে একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অর্থাৎ ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ বেআইনি। হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, নিউ ইয়র্কের এই দেওয়ানি আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে চলেছে ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেছেন, দেশে জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলা কীভাবে করতে হবে তা বিচারকেরা স্থির করে দিতে পারেন না। ঘটনাচক্রে, পাল্টা শুল্ক আরোপের পক্ষে সওয়াল করার সময় আদালতে এই জরুরি পরিস্থিতির যুক্তিই দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও তা ধোপে টেকেনি। শুধু তাই নয়, মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক আদালতে দাবি করেছিলেন, বাণিজ্যিক ইস্যুতে চাপ সৃষ্টি করেই ভারত ও পাকিস্তানকে সম্প্রতি যুদ্ধবিরতির জন্য রাজি করিয়েছিল ওয়াশিংটন। পাল্টা শুল্ক ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপকে আদালত বাতিল করে দিলে গোটা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি ফের বিপদের মুখে পড়তে পারে। আদালত এই যুক্তিও গ্রহণ করতে রাজি হয়নি। পাশাপাশি, নয়াদিল্লির তরফেও বৃহস্পতিবার ফের ট্রাম্প প্রশাসনের এই দাবি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। এদিন বিদেশ মন্ত্রকের তরফে আরও একবার জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের আবহে আমেরিকার সঙ্গে শুল্ক সংক্রান্ত কোনও কথাই হয়নি। ঘটনাচক্রে, ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে আমেরিকায় মুদ্রাস্ফীতি ও আর্থিক মন্দার শঙ্কা তৈরি হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেজ্ঞ জানিয়ে নিউ ইয়র্কের আদালতে গিয়েছিল আমেরিকারই একঝাঁক সংস্থা। ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক নীতির ফলে ভারতীয় পণ্যের উপর ২৬ শতাংশ কর চেপেছিল। যদিও পরে ওয়াশিংটন ঘোষণা করেছিল, ৯০ দিনের জন্য বিশ্বজুড়েই পাল্টা শুল্ক স্থগিত রাখা হচ্ছে। আগামী ৯ জুলাই সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল। পাল্টা শুল্কের ধাক্কা সামলাতে ভারত আমেরিকার সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করেছে। মার্কিন আদালতের রায়ের পর ভারত বাড়তি সময় পেল বলে মনে করা হচ্ছে।



