


ওয়াশিংটন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিদিনই ঘোষণা করে চলেছেন, ‘ইরানের সব প্রতিরোধ শেষ হয়ে গিয়েছে। তেহরানের পতন এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।’ অথচ, প্রায় প্রতিদিনই মার্কিন ঘাঁটি ও আমেরিকার সহযোগী দেশগুলিতে মিসাইল হামলা চালাচ্ছে ইরানি সেনা। এই পরিস্থিতিতে সংবাদমাধ্যমের উপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষোভ, ইরানে মার্কিন অভিযানের খবর ঠিকভাবে প্রকাশ করছে না সংবাদমাধ্যমগুলি। তাই কখনো ভাষণ, কখনো আবার তিরস্কার, এমনকি সরাসরি হুমকি দিয়েও ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের কর্তারা সাংবাদিকদের বলছেন, আমেরিকার পক্ষে খবর প্রকাশ করতে হবে। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত একটি খবর নিয়ে ট্রাম্প ব্যাপক ক্ষুব্ধ হন বলে খবর। নিজের বিমানের ভিতরেই এক মার্কিন সাংবাদিককে এই নিয়ে তিরস্কার করেন। ট্রাম্প ও তাঁর প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সংবাদমাধ্যমগুলির দেশপ্রেম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। যুদ্ধ নিয়ে ‘ভুয়ো খবর’ ছড়ানো বন্ধ না করলে সংবাদমাধ্যমের লাইসেন্স কেড়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু সংবাদমাধ্যমের উপর ট্রাম্প এত ক্ষুব্ধ কেন? সংঘাত শুরু হওয়ার পরেই সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতারের মতো পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান। মার্কিন সেনার একাধিক যুদ্ধবিমান সহ অন্যান্য পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। সেই খবর প্রকাশিত হতেই সরব হন ট্রাম্প। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ইরানের হামলায় যুদ্ধবিমানের ক্ষয়ক্ষতি বাড়িয়ে দেখাচ্ছে সংবাদমাধ্যম। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি ইরানের রিপোর্টই ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ সংবাদমাধ্যম বিশ্বাস করছে। তাঁর অভিযোগ, মার্কিন সেনা ইরানে কতটা সফল, তা দেখানো হচ্ছে না। সম্প্রতি ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’-এ ফ্লোরিডা থেকে হোয়াইট হাউসে ফিরছিলেন ট্রাম্প। বিমানে সাংবাদিক বৈঠক চলাকালীনই তিনি তীব্র তিরস্কার করেন এবিসি নিউজের সাংবাদিক মারিয়ম খানকে। পেন্টাগনে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতি দেওয়ার সময় অপর সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে আক্রমণ করেন হেগসেথ। ট্রাম্প প্রশাসনের শর্ত না মানার জন্য একাধিক প্রথমসারির সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা এখন পেন্টাগনের প্রেস রুমে জায়গা পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরে-বাইরে প্রবল চাপের শিকার হয়েই মিডিয়াকে টার্গেট করছেন ট্রাম্প। সংঘাতের প্রথম দিনেই আয়াতোল্লা খামেনেইকে হত্যার পর ভাবা হয়েছিল, ইরান দ্রুত আমেরিকার সামনে নতজানু হবে। কিন্তু প্রায় ২০ দিন পরেও তেহরান যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। সেই বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট।