নয়াদিল্লি: বিরল সমাপতন! নজিরবিহীনভাবে রাশিয়া, চীন, ইরান ও পাকিস্তানের সঙ্গে একযোগে ‘মার্কিন আগ্রাসনে’র বিরুদ্ধে সরব হল ভারত। আফগানিস্তানের বাগরাম এয়ারবেস ফের নিজেদের দখলে আনতে মরিয়া আমেরিকা। স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এব্যাপারে আফগানিস্তানের তালিবান নেতৃত্বকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বলেছেন, কাবুল সংলগ্ন এই এয়ারবেসের নিয়ন্ত্রণ আমেরিকার হাতে ফিরিয়ে না দিলে ফল ভুগতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুঁশিয়ারির বিরুদ্ধেই এবার একযোগে সুর চড়াল এশিয়ার একঝাঁক দেশ ও রাশিয়া। বাগরাম এয়ারবেসে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের চেষ্টা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছে এই দেশগুলি।
মঙ্গলবার রাশিয়ায় ‘মস্কো ফরম্যাট কনসালটেশনস’-এর সপ্তম আলোচনাচক্রে অংশ নেয় ভারত, ইরান, কাজাখস্তান, চীন, কিরঘিজস্তান, রাশিয়া, পাকিস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান। আফগানিস্তানের সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন নিয়ে সেখানে বিস্তারিতভাবে আলোচনা হয়। এরপর একটি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আফগানিস্তান ও তার প্রতিবেশী দেশগুলিতে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। এধরনের পদক্ষেপে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হতে পারে। ঘটনাচক্রে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের চলতি সংঘাতের আবহেই এবার বাগরাম এয়ারবেস ইস্যুতেও ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধপথে হাঁটল নয়াদিল্লি। আর তা নিয়ে নয়াদিল্লি যেভাবে রাশিয়া, ইরান, চীন ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলির সঙ্গে যৌথভাবে বিবৃতি প্রকাশ করল, কূটনৈতিকভাবে তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ওই আলোচনাচক্রে অংশ নিয়েছিলেন মস্কোয় নিযুক্ত ভারতীয় দূত বিনয় কুমার। ছিলেন রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। তালিবান নেতৃত্বের তরফে ছিলেন আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মুত্তাকি শীঘ্রই ভারত সফরে আসছেন। তাঁর এই আসন্ন সফরকে আফগানিস্তানের তালিবান নেতৃত্বের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নয়া সমীকরণের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের সময়ই বাগরাম এয়ারবেস খালি করে দিয়েছিল আমেরিকা। দু’দশক পর ফের কাবুলের দখল নিয়েছিল তালিবান। যদিও অবস্থান ও কৌশগতভাবে অতি গুরুত্বপূর্ণ এই সামরিক ঘাঁটি ফের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে চাইছে ওয়াশিংটন। সেই সূত্রেই তালিবান নেতৃত্বকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। যদিও এবার ভারত সহ এশিয়ার একঝাঁক দেশ এর বিরোধিতার সরব হল।