ওয়াশিংটন: তাঁর ঘোষণা করা শুল্ক-যুদ্ধ কাছাকাছি এনে দিয়েছে ভারত-চীন-রাশিয়াকে। খোদ নিজের দেশের আদালতেও ধাক্কা খেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর চাপানো অধিকাংশ শুল্ককে বেআইনি বলে ঘোষণা করেছে ফেডারেল আপিল কোর্ট। এখন যা অবস্থা, তাতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট কী বলে সেদিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে। চাপের মুখে পড়ে যাবতীয় ক্ষোভ সেই ভারতের উপরই উগরে দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বললেন, ‘ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের সুন্দর সম্পর্ক নিয়েই চলছিল আমেরিকা। কিন্তু সেই সম্পর্ক ছিল একতরফা। বহু বছর ধরে মার্কিন পণ্যের উপর প্রচুর পরিমাণে শুল্ক চাপিয়ে রেখেছে নয়াদিল্লি, যা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। ফলে ভারতে বিশেষ ব্যবসা করতে পারছিল না আমেরিকা। কিন্তু আমরা শুল্ক না চাপানোয় ওরা আমেরিকায় প্রচুর ব্যবসা করেছে। আমরা এতদিন বোকার মতো শুল্ক চাপাইনি।’
পাশাপাশি এক রেডিও শোয়ে ট্রাম্পের তোপ, ‘চীন ও ব্রাজিলের মতো ভারতও শুল্ক চাপিয়ে আমেরিকাকে খুন করে। আমি শুল্ক সম্পর্কে ওদের থেকে অনেক ভালো বুঝি। এবিষয়ে আমার থেকে বেশি জ্ঞান বিশ্বের আর অন্য কোনও ব্যক্তির নেই। ভারতই হল বিশ্বের মধ্যে সর্বাধিক শুল্কের দেশ। আর একথা তো জানেন, ওরা প্রস্তাব দিয়েছে ভারতে আর মার্কিন পণ্যে শুল্ক লাগবে না। কোনও শুল্কই লাগবে না।’ মোদি-পুতিন-জিনপিং বৈঠকের আবহে এর আগেও একই দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেছিলেন, মার্কিন পণ্যে শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ভারত। কিন্তু এখন বড্ড দেরি হয়ে গিয়েছে।
এদিন হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছিলেন, ভারতের উপর সদ্য চাপানো চড়া শুল্কের কিছু অংশ কি প্রত্যাহারের কথা ভাবা হচ্ছে? সেই প্রশ্নের জবাবেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট কার্যত বুঝিয়ে দিলেন, এব্যাপারে তাঁর অবস্থান বদল হচ্ছে না। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা এতদিন শুল্ক না চাপানোয় মার্কিন বাজারে ঢালাও পণ্য বিক্রি করছিল ভারত। কিন্তু ওরা ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে রাখায় আমরা ভারতের বাজারে পণ্য বিক্রি করতে পারছিলাম না।’ উদাহরণ হিসেবে হার্লে ডেভিডসন মোটরসাইকেলের উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, এক্ষেত্রে ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় ভারতে ওই মোটরসাইকেল বিক্রি করা যাচ্ছিল না। তাই হার্লে ডেভিডসন বাধ্য হয়ে ভারতে কারখানা তৈরি করে।
নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে রাশিয়ার তেল কেনা, বাণিজ্য ও শুল্কের মতো একাধিক যুক্তি দিয়েছেন ট্রাম্প। যদিও ভারতের উপর ট্রাম্পের এই গোঁসার যে অন্য কারণ রয়েছে, তা কোনওভাবেই চাপা থাকছে না। এবার কৌশলগত সম্পর্ক সংক্রান্ত মার্কিন বিশেষজ্ঞ অ্যাসলে জে টেলিসের দাবি, মে মাসে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বন্ধের কৃতিত্ব পেতে ব্যর্থ হয়েছেন ট্রাম্প। নিজেকে ‘প্রতারিত’ মনে করছেন।