Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এসআইআরের তালিকায় নাম বাদ যাওয়া পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে গুরুত্ব, আমডাঙায় তৃণমূলের ‘টার্গেটেড মাইক্রো ম্যানেজমেন্ট’

আমডাঙা বিধানসভা কেন্দ্রে কৌশলগতভাবে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে ঝাঁপিয়েছে তৃণমূল। মোট ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্রে দল এখন ‘টার্গেটেড মাইক্রো ম্যানেজমেন্ট’-এর পথে হাঁটছে।

এসআইআরের তালিকায় নাম বাদ যাওয়া  পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে গুরুত্ব, আমডাঙায় তৃণমূলের ‘টার্গেটেড মাইক্রো ম্যানেজমেন্ট’
  • ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: আমডাঙা বিধানসভা কেন্দ্রে কৌশলগতভাবে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে ঝাঁপিয়েছে তৃণমূল। মোট ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্রে দল এখন ‘টার্গেটেড মাইক্রো ম্যানেজমেন্ট’-এর পথে হাঁটছে। রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এবং অতীতে বিজেপি প্রভাবিত অঞ্চলগুলিকে এক্ষেত্রে বিশেষভাবে চিহ্নিত করে বাড়তি জোর দিচ্ছে শাসক শিবির। এই বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন কাসেম সিদ্দিকি। গতবারের বিধায়ক রফিকুর রহমানকে এবার টিকিট দেয়নি দল। তারপর একাধিক বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু এখন তা অনেকটাই থিতিয়ে গিয়েছে। এই কেন্দ্রের তিনটি পঞ্চায়েত পড়ে বারাসাত ১ নম্বর ব্লকের মধ্যে (দত্তপুকুর ১, দত্তপুকুর ২ এবং কাশেমপুর)। বাকি আটটি পঞ্চায়েত রয়েছে আমডাঙা ব্লকে। এর মধ্যে মরিচা, বেড়াবেড়িয়া, আদহাটা, বোদাই এবং আমডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েত দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। এই অঞ্চলগুলিতে অতীতে বিজেপি এগিয়ে থাকায় এবার শুরু থেকেই সতর্ক তৃণমূল নেতৃত্ব। এই প্রেক্ষাপটে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়াকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিকেই কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু করেছে তৃণমূল। বিভিন্ন এলাকায় অভিযোগ উঠেছে, বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। কোথাও পরিবারের একজনের নাম থাকলেও অন্য সদস্যদের নাম নেই। আবার কোথাও পুরো পরিবারের নামই উধাও। 

Advertisement

ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ, বিভ্রান্তি এবং অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তৃণমূল এই পরিস্থিতিকেই রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে তৎপর। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে প্রতিটি বুথে তালিকা তৈরি করে চিহ্নিত করা হচ্ছে সেই সব পরিবারকে, যাদের পরিবারের কারও নাম বা সবার নাম বাদ পড়েছে। সেই মতো কর্মীদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে। কে কোন এলাকায় যাবেন, কার সঙ্গে কথা বলবেন, কীভাবে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেবেন—সবকিছুই নির্দিষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি প্রচারের এই কৌশলে সরাসরি জনসংযোগ বৃদ্ধিই প্রধান লক্ষ্য। স্থানীয় নেতাদের বলা হয়েছে, রাজনৈতিক ভাষণ নয়, বরং সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি ও সহানুভূতির মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড়ে সাহায্য করা এবং প্রশাসনিক স্তরে যোগাযোগ স্থাপন— এই তিনটি দিককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তৃণমূল বুঝতে পারছে যে শুধু বাইরের লড়াই লড়লেই হবে না, নিজেদের সংগঠনও সমানভাবে মজবুত রাখতে হবে। এখনও একাধিক নেতা-নেত্রী অভিমান করে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন বলে খবর। এই পরিস্থিতি কাটাতে জেলা ও ব্লক স্তরের নেতৃত্ব সক্রিয় হয়েছে। অভিমান ভাঙাতে একাধিক বৈঠক, ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে তাঁদের আবার সংগঠনের মূল স্রোতে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। দলের একাংশের মতে, এই নির্বাচনে জয়ের চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে ‘লোকাল কানেক্ট’-এই। 
অর্থাৎ, যাঁরা এলাকায় প্রভাবশালী, যাঁদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের যোগাযোগ, তাঁদের সক্রিয় না করলে কোনো কৌশলই পূর্ণ সফলতা পাবে না। তাই পুরানো কর্মী থেকে শুরু করে প্রাক্তন জনপ্রতিনিধি, সবাইকে এক ছাতার তলায় আনার চেষ্টা করছে তৃণমূল। তৃণমূল প্রার্থী কাসেম সিদ্দিকি বলেন, ‘দল আমাকে প্রার্থী করেছে। সবাইকে নিয়ে কাজ করছি। জয় কেবল সময়ের অপেক্ষা।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ