সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: পাথরপ্রতিমা বিধানসভা অঞ্চলকে রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে পাকাপাকি জায়গা দিতে চান তৃণমূল প্রার্থী সমীরকুমার জানা। এই ভোটে তিনি এলাকার উন্নয়ন, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা বিতরণের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পকে প্রচারের হাতিয়ার করছেন। যদিও বিরোধীরা এই প্রচারকে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না। বিজেপি প্রার্থী অসিত হালদার বলেন, ‘বলা হচ্ছে বাইরে থেকে মানুষ এখানে ঘুরতে আসবে। অথচ এখানকার মানুষ পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে ভিনরাজ্যে কাজ করতে চলে যাচ্ছেন।’ সিপিএম প্রার্থী সত্যরঞ্জন দাস বলেন, ‘কর্মসংস্থান নেই। মানুষের পেটে ভাত না থাকলে পর্যটন গড়ে তুলে কি লাভ হবে?’
পাথরপ্রতিমা বিধানসভা এলাকা নদীবেষ্টিত। ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েত নদী দিয়ে ঘেরা। যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌকা বা ভুটভুটি। কলকাতা থেকে গাড়ি নিয়ে পাথরপ্রতিমা বিধানসভার শেষতম দ্বীপে পৌঁছান একসময় ছিল চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এখন রায়দিঘি হয়ে পাখিরালয় ও চালতাবুনিয়া নদীতে ভেসেলে গাড়ি তুলে পারাপার করা যায়। সহজেই শেষ দ্বীপে পৌঁছানো যায়। এছাড়া বনশ্যামনগর, রামগঙ্গা ও পাথরপ্রতিমায় আরও তিনটি পল্টন জেটি তৈরির কাজ চলছে। সেখানেও ভেসেলে গাড়ি পার করা যাবে। তখন গোবর্ধনপুরের বিশাল সমুদ্র সৈকত, ধনচি জঙ্গল, রামগঙ্গার ১১১ বছরের শিবালয় মন্দির, পাথরপ্রতিমার কুমির প্রকল্প, লক্ষ্মীপুরের প্রাচীন বিশালাক্ষী মন্দির ঘুরে দেখা সম্ভব হবে। এই তিন জেটির কাজ সম্পূর্ণ হলে পর্যটকদের জন্য তিনদিনের জন্য প্যাকেজ ট্যুরের পরিকল্পনা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
তৃণমূল প্রার্থী সমীরকুমার জানা বিষয়টি নিয়ে বলেছেন, ‘প্রচারে এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি পাথরপ্রতিমার পর্যটনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে। আর আদিবাসীদের বিকল্প কর্মসংস্থানেরও কথাও বলা হচ্ছে।’ বিজেপির প্রার্থী অসিত হালদার এ সূত্রে বলেন, ‘এই দল আগে আদিবাসীদের সম্মান দিক। তারপর বিকল্প কর্মসংস্থানের কথা ভাবুক।’ সিপিএমের প্রার্থী সত্যরঞ্জন দাস বলেন, ‘যেখানে এখন ভেসেল চলাচল করছে, সেখানে সেতু তৈরি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি।’