Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নবীন-প্রবীণ ভারসাম্যে প্রার্থী তালিকা তৃণমূলের

অভিনয় ও সংগীত জগতের কয়েকজনের নাম নিয়ে বিস্তর জল্পনা-চর্চা থাকলেও, ‘সেনা’ বাছাইয়ে সেই পথেই হাঁটলেন না তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

নবীন-প্রবীণ ভারসাম্যে প্রার্থী তালিকা তৃণমূলের
  • ১৮ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অভিনয় ও সংগীত জগতের কয়েকজনের নাম নিয়ে বিস্তর জল্পনা-চর্চা থাকলেও, ‘সেনা’ বাছাইয়ে সেই পথেই হাঁটলেন না তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  দলের প্রতি আনুগত্য, আর রাজনৈতিক সচেতন সহযোদ্ধাদের নিয়েই ভোট-যুদ্ধের প্রার্থী তালিকা সাজালেন মমতা। তালিকায় যেমন রয়েছেন ২৫ থেকে ৪০ বছর বয়সি ৪২ জন নবীন, ঠিক তেমনই এমন ২৫ জন অভিজ্ঞ প্রবীণকে মহারণ-২৬’-এর যোদ্ধা হিসাবে বেছে নিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁদের বয়স ৭১ থেকে ৯০’এর মধ্যে। প্রার্থীদের মধ্যে যেমন রয়েছেন তরুণ তুর্কি মধুপর্ণা ঠাকুর-দেবাংশু ভট্টাচার্য, তেমনই আছেন পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়-মানস ভুঁইয়া। রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, সবমিলিয়ে জোড়াফুলের প্রার্থী তালিকা এবার অনেক বেশি পরিণত এবং সমৃদ্ধ।  তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় সামাজিক সমন্বয়টাও চোখে পড়ার মতো—৫২ জন মহিলা, তফসিলি জাতি-উপজাতির ৯৫ জন প্রতিনিধি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৪৭ জন। নবীন-প্রবীণ সমন্বয়ের ‘সেনাবাহিনী’ নিয়েই যে বাংলার অধিকার রক্ষায় তিনি নেমেছেন, মঙ্গলবার কালীঘাটের সাংবাদিক সম্মেলনে তা স্পষ্ট করেছেন মমতা। বলেছেন, ‘২০২৬-এর লড়াই, বাংলাকে রক্ষার লড়াই। এই লড়াইয়ে জিতবই।’ 

Advertisement

সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়! রাজ্যের যে সমস্ত বিধানসভা কেন্দ্রে জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে নিজেকে ‘পার্টির ঊর্ধ্বে’ রাখার অভিযোগ উঠেছিল, তাঁরা এবার টিকিট পাননি। বর্তমান মন্ত্রিসভার চার সদস্য মনোজ তিওয়ারি, জ্যোৎস্না মান্ডি, তাজমুল হোসেন এবং বিপ্লব রায়চৌধুরী সহ মোট ৭৪ জনকে বিধায়ককে তালিকা থেকে বাদ রাখা হয়েছে। বর্তমান যে ১৩৫ জন বিধায়ক ফের দলের টিকিট পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ১৫ জনের কেন্দ্র বদলে দিয়েছেন মমতা-অভিষেক। এই পর্বে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ক্যানিং-পূর্ব আসনের বর্তমান বিধায়ক শওকত মোল্লা। তাঁকে এবার ভাঙড় থেকে লড়তে পাঠিয়েছে দল। তৃণমূল সূত্রে খবর, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিধায়কদের ‘পারফরম্যান্স’কে যেমন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তেমনই ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষা করতে যে বা যাঁরা বেশি তৎপর হয়েছিলেন, তাঁদের ছেঁটে ফেলা হয়েছে। 
এদিন বিকেলে প্রার্থী তালিকা প্রকাশের আগে সকালে কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সমাজের বিভিন্ন স্তরের ১৩ জন বিশিষ্ট মানুষ তৃণমূলে যোগ দেন। তাঁদের মধ্যে মহম্মদ মুফতি আব্দুল মাতিন, ডঃ তনুশ্রী হাঁসদা, ক্রিকেটার শিবশংকর পাল, ডাঃ সৌগত বর্মন, অভিনব ভট্টাচার্য উল্লেখযোগ্য। তবে সবচেয়ে নজর কেড়েছেন নন্দীগ্রামের প্রথম সারির বিজেপি নেতা তথা বিরোধী দলনেতার একসময়ের সহযোগী পবিত্র কর। এদিন অভিষেকের হাত ধরে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত হন পবিত্র। বিকেলে দেখা গেল, পবিত্রতেই ভরসা রেখে জোড়াফুল শিবির। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে প্রার্থী তিনিই। বাকি যে ১২ জন এদিন তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই রয়েছেন প্রার্থী তালিকায়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ