রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: দিন ১৫ আগে রাজ্যে বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এই ক’দিনেই প্রচারে ঝড় তুলে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। কার্যত ফাঁকা ময়দানে বিরোধীদের ‘গোল’ দিচ্ছে তারা! কারণ, প্রধান বিরোধী বিজেপি হোক বা বাম-কংগ্রেস—কারও প্রচারই সেই অর্থে দানা বাঁধেনি এখনও। তাছাড়া, সোমবার পর্যন্ত বেশ কিছু আসনে প্রার্থী ঘোষণাই করতে পারেনি বিজেপি। বামেদের তরফে সিংহভাগ প্রার্থীর নাম ঘোষণা হলেও বাড়ি বাড়ি প্রচার ছাড়া নজরকাড়া কোনো প্রচার কৌশল সামনে আনতে দেখা যায়নি তাদের। উলটোদিকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যজুড়ে বেশ কয়েকটি জনসভা সেরে ফেলেছেন ইতিমধ্যে। তাদের সাংগঠনিক স্তরেও প্রতিদিন চলছে নানা কর্মকাণ্ড। সার্বিক পরিস্থিতি দেখে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছে, প্রচারের প্রথম ১৫ দিনেই কার্যত ছক্কা হাঁকিয়েছে তৃণমূল। বিরোধীদের প্রচার সেই তুলনায় অনেক ম্রিয়মান।
কেন মনে করা হচ্ছে যে তৃণমূল এক কদম এগিয়ে গিয়েছে? রাজনীতির কারবারিদের ব্যাখ্যা, ভোট ঘোষণা হওয়ার পর তৃণমূল তাদের নির্বাচনি ইস্তাহার প্রকাশ করে দিয়েছে। গত ১৫ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বাংলাজুড়ে কী কী উন্নয়ন করেছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য দেওয়া হয়েছে ইস্তাহারে। আগামী পাঁচ বছরে তৃণমূল কী কী করতে চায়, সেই প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ইস্তাহারে তাদের ‘দশ প্রতিজ্ঞা’ জানিয়েছে তৃণমূল। এছাড়া, ২৪ মার্চ থেকে একটানা প্রচার কর্মসূচিতে রয়েছেন মমতা ও অভিষেক। উত্তরবঙ্গের চালসা থেকে তাঁর জেলাভিত্তিক রাজনৈতিক কর্মসূচি শুরু করেন মমতা। তার আগের দিন তিনি ভবানীপুরে নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে কর্মিসভা করেন। ২৪ তারিখই পাথরপ্রতিমায় প্রথম নির্বাচনি জনসভা করেন অভিষেক। এই ১৫ দিনে মমতা ও অভিষেক মোট ৩০টির বেশি সভা করে ফেলেছেন। তৃণমূলের তরফে একটি প্রচারমূলক গান প্রকাশ করা হয়েছে—‘যে লড়ছে সবার ডাকে, সেই জেতাবে বাংলা মা-কে।’ তৃণমূলে যখন এই তৎপরতা, তখন রাজ্যের প্রধান বিরোধী শিবিরের অবস্থাটা কী? বিজেপি সাধারণত নরেন্দ্র মোদি কিংবা অমিত শাহকে সামনে রেখে প্রচারে ঝড় তোলে। কিন্তু নির্বাচনি নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর এখনও প্রধানমন্ত্রী কোনো জনসভা বা রোড-শোয়ে আসেননি বাংলায়। তাঁর আসার কথা ৫ এপ্রিল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিজেপি বাংলার ১৯ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করতে পারেনি। যে ক’টি নাম ঘোষণা হয়েছে, তার মধ্যেও অনেক ক্ষেত্রে প্রার্থী নিয়ে গোলমাল তুঙ্গে উঠেছে। প্রার্থী তালিকা নিয়ে ক্ষোভ আছড়ে পড়েছে বিজেপির রাজ্য সদর দপ্তরে।
সিপিএমের দু’-চারজন তরুণ মুখ ছাড়া প্রার্থী তালিকায় তেমন উল্লেখযোগ্য নাম নেই। কংগ্রেস প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার ১৫ দিন পর। ফলে সিপিএম, কংগ্রেসের প্রচারে তেমন ছাপ এখনও পড়েনি। প্রার্থীদের হাতে আর রয়েছে ২২-২৫ দিন। এই সময়ে তাঁদের প্রচার কতটা তুঙ্গে ওঠে, সেটাই দেখার।