


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: উত্তর শহরতলির শক্ত ঘাঁটিতে গত কয়েক মাস শাসক দলকে বিব্রত থাকতে হয়েছিল পানিহাটি নিয়ে। বিধায়ক বনাম বিরোধী গোষ্ঠীর লড়াই বারবার প্রকাশ্যে চলে এসেছে। সমস্ত দিক বিবেচনা করে পাঁচ বারের বিধায়ক নির্মল ঘোষের বদলে এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী করেছে তাঁর ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষকে। বিধায়কের বিরোধী গোষ্ঠী তাঁর ছেলেকে প্রার্থী হিসাবে মানবে কি না, তা নিয়ে দলের মধ্যেই সংশয় ছিল। কিন্তু প্রার্থী ঘোষণার পর সব পক্ষ একজোট হয়ে ময়দানে নামায় স্বস্তি ফিরেছে জোড়াফুল শিবিরে। তৃণমূলের ভোট ম্যানেজারদের পাশাপাশি দলের সাধারণ কর্মীদের মধ্যেও খুশির হাওয়া। বিবদমান সব পক্ষই জানিয়েছে, পানিহাটিতে কোনো গোষ্ঠী নেই। দলের প্রার্থীকে জেতাতে সবাই বদ্ধপরিকর।
উত্তর শহরতলির প্রতিটি পুরসভা, বিধানসভা ও লোকসভা আসন তৃণমূলের দখলে। স্থানীয় স্তরে টুকটাক মতপার্থক্য থাকলেও বড় আকারের কোন্দল পানিহাটির মতো অন্য কোথাও ছিল না। পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান বদল, দলীয় বৈঠকে গরহাজিরা সহ একের পর এক ঘটনায় বিধায়ক ও বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে ফাটল চওড়া হয়। ভোটের আগে দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকেও বসেছিল তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব। তারপরও জট কাটেনি। মহিলা নেতৃত্বের ডাকা বৈঠকে বিধায়কের বিরোধী গোষ্ঠী হাজির ছিল না। সেই বিক্ষুব্ধদের দলে ছিলেন পানিহাটি শহর তৃণমূল সভাপতি (পূর্ব) সম্রাট চক্রবর্তী, পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে, সিআইসি (বিদ্যুৎ) তাপস দে সহ একাধিক কাউন্সিলার। দলের মধ্যে আড়াআড়ি বিভাজনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। মঙ্গলবার প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পর তীর্থঙ্কর প্রথমেই যান সম্রাটবাবুর কার্যালয়ে। সেখানে চেয়ারম্যান সোমনাথবাবুও হাজির ছিলেন। তাঁদের মধ্যে বেশ কিছু সময় রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। দীর্ঘ বৈঠক ফলপ্রসূ হয়। সকলে হাসিমুখে বেরিয়ে আসেন। এরপর সম্রাটবাবু সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে লেখেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশীর্বাদধন্য পানিহাটির তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষকে বিপুল ভোটে জয়ী করুন।’ সেখানে শতাধিক কমেন্ট ও কয়েকশো লাইক পড়ে। পানিহাটির এক বর্ষীয়ান কাউন্সিলার বলেন, ‘আমরা তো সবাই একান্নবর্তী পরিবারে ছিলাম। পরিবার বড় হলে টুকটাক ঝামেলা হয়। কিন্তু এখানে তো কে কোন গোষ্ঠীর, তা দেগে দেওয়া হচ্ছিল। আমাদের মতো বহু সাধারণ কর্মী আতান্তরে পড়েছিলাম। কিন্তু প্রার্থী ঘোষণার পর নেতারা যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন, তাতে আমরা খুশি।’
সম্রাট চক্রবর্তী বলেন, ‘পানিহাটিতে কোনো গোষ্ঠী কখনও ছিল না। যোগ্য সম্মান না পেয়ে কেউ হয়তো কখনও অভিমান করেছেন। সে তো বড় দলে থাকেই। দলের প্রার্থীকে বিপুল মার্জিনে জেতাতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’ আর প্রার্থী নিজে বলেন, ‘দল মনে করেছে, তাই আমাকে প্রার্থী করেছে। আমার জায়গায় অন্য কেউও প্রার্থী হতে পারতেন। এখানে ব্যক্তির কোনো জায়গা নেই। দলই সব। সবার সঙ্গে দেখা করেছি। ইতিমধ্যে প্রচারের বিষয়ে প্রাথমিক বৈঠকও হয়ে গিয়েছে। নির্মলবাবুর নেতৃত্বে দল এখানে শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। বিরোধীদের কোনো অপপ্রচারে লাভ হবে না।’