নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বাংলা এবং বাঙালির বিরুদ্ধে বিজেপির ষড়যন্ত্র। এই অভিযোগে আজ বৃহস্পতিবার সংসদ উত্তাল করবে বলেই ঠিক করেছে তৃণমূল। তারই লক্ষ্যে রাজ্যসভায় দলের ১১ জন সাংসদ জমা দেবেন নোটিস। আলোচনা করতে হবে বাঙালির হেনস্তার ইস্যুতে। তারই সঙ্গে রয়েছে স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন ইস্যু। লোকসভাতেও সোচ্চার হবে দল। বুধবার আলোচনার দাবিতে রাজ্যসভায় নোটিস দিয়েছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু গৃহীত হয়নি। আজও একইভাবে বাংলা বাঙালি ইস্যুতে লোকসভায় সরব হবে তৃণমূল। এবং এবার সংসদে যেকোনও আলোচনায় তাঁরা বাংলাতেই কথা বলবেন বলেই ঠিক হয়েছে। আজ বাংলা বর্ণ পরিচয়ের অক্ষর লেখা পোশাক পরে প্রতিবাদের পরিকল্পনা রয়েছে। সংসদে আলোচনার দাবিতে বাংলাতেই নোটিস দেওয়ার ভাবনাচিন্তা চলছে।
এদিকে, সরকারের কাছে সংখ্যালঘুদের প্রি ম্যাট্রিক স্কলারশিপ ইস্যুতে প্রশ্ন করেছিলেন তৃণমূলের বাপি হালদার। জবাব পেয়ে স্কলারশিপের ক্ষেত্রেও বাংলাকে বঞ্চনারই অভিযোগ করেছে তৃণমূল। সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু লিখিতভাবে জানিয়েছেন, ২০২১-২২ সালের পর এই মন্ত্রকের স্কলারশিপ বন্ধ। তবে তার আগে তিন বছর পশ্চিমবঙ্গের ১ হাজার ৭৩৩ জন সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীকে স্কলারশিপ হিসেবে মোট ৫২ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। স্কলারশিপ বন্ধ করে দেওয়ার কারণ হিসেবে মন্ত্রী বলেছেন, দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। একইভাবে সরকার যে বারবার গরিবি কমার দাবি করে, সে ব্যাপারে সংসদে প্রকৃত তথ্য জানতে চেয়েছিলেন তৃণমূলের দীপক অধিকারী । গরিবদের খাদ্যশস্য বিতরণ নিয়েও ছিল তাঁর প্রশ্ন। জবাবে খাদ্যমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী নিমুবেন জানিয়েছেন, ২০২১ সালে মাল্টিডায়মেনশনাল পর্ভাটি ইনডেক্স ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তারই ভিত্তিতে ২০২৩ সালে নীতি আয়োগ রিপোর্ট দিয়েছে, ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে দেশে গরিব ছিল ২৪.৮৫ শতাংশ মানুষ। সেটি এখন হয়েছে ১৪.৯৬ শতাংশ। সংখ্যার হিসেবে দেশে ১৩ কোটি ৫৫ লক্ষ নাগরিক গরিবি রেখার বাইরে বেরিয়ে এসেছেন। ৮০ কোটি ৫৬ লক্ষ গরিবদের এখনও দেওয়া হচ্ছে বিনামূল্যে রেশন।