


রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: যে কোনও সময় রাজ্যে এসআইআরের বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে! এই আবহে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকা এবং বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের দিকে বাড়তি নজর দিচ্ছে রাজ্যের শাসক দল। এসব অঞ্চলের মানুষ, বিশেষত মতুয়া সম্প্রদায়ভুক্তরা এসআইআর নিয়ে যাতে কোনওভাবেই ভীত-সন্ত্রস্ত না হন, সেই বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছে তৃণমূল। আগামী দিনে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে একাধিক সভা আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জোড়াফুল শিবির।
স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর বাংলায় কবে হবে, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে বিস্তর চর্চা। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি এসআইআর নিয়ে প্রতিদিনই সুর চড়াচ্ছে। পাল্টা জবাব দিতে দেরি করছে না তৃণমূল। বিজেপি নেতারা কার্যত হুমকির সুরে ঘোষণা করছেন, এসআইআর হলে এক কোটির বেশি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়বে। তাঁদের এই ধরনের কথাবার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে বলে দাবি তৃণমূলের। সিএএ বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন লাগু করা নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। সিএএ-তে নাগরিত্বের আবেদনের জন্য আরও কিছু শিবির এবং কর্মসূচির পরিকল্পনাও করছে তারা। সেই জায়গায় তৃণমূলের পক্ষ থেকে পাল্টা বলা হয়েছে, একজনও প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ পড়লে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে।
মূলত উত্তর ২৪ পরগনা ও নদীয়া জেলায় মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস বেশি। এছাড়াও রাজ্যের আরও কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে রয়েছেন মতুয়ারা। বনগাঁ, রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রে বড় অংশের মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের ভোটাধিকার রয়েছে। কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের চিত্রটাও কমবেশি এক। এই অবস্থায় তৃণমূল পর্যালোচনা করে দেখছে, বিগত দু’টি লোকসভা ও একটি বিধানসভা নির্বাচনে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকা থেকে কত ভোট তৃণমূলের বাক্সে এসেছে। মতুয়াদের একাংশ যে বিজেপির দিকে ঝুঁকে আছে, সেই তথ্যও রয়েছে তৃণমূলের কাছে। এই অবস্থায় তৃণমূল চাইছে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোট নিজেদের দিকে টানতে। তাই এসআইআর আবহে তৃণমূল মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছতে চাইছে। এসআইআর হলে আবার তাঁদের হেনস্তার মুখে পড়তে হতে পারে, কাগজপত্র সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিতে পারে—এরকম আশঙ্কায় ভুগতে শুরু করেছে মতুয়াদের একাংশ। তাই এই অবস্থায় তাদের পাশে সর্বতোভাবে থাকার বার্তা দিতে উদ্যোগী হয়েছে তৃণমূল। তাই মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় লাগাতার সভা-সমাবেশের পরিকল্পনা করছে তারা। বিধানসভা ও লোকসভা ভিত্তিক সভা হবে। পাশাপাশি, সর্বভারতীয় মতুয়া মহাসংঘের তরফে আগামী ২৮ ডিসেম্বর ধর্মতলায় সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। সেই সভা থেকে দেশভাগের বলি উদ্বাস্তুদের জন্য নিঃশর্ত নাগরিকত্বের দাবি তোলা হবে। এসআইআর আবহে এই সমাবেশ এবার বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, কোচবিহার, দিনাজপুর সহ রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে তৃণমূল বিশেষ নজর দিচ্ছে। এসব এলাকায়ও লাগাতার সভা, সমাবেশ, জনসংযোগের কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। সীমাম্তবর্তী এলাকাগুলিতে বিজেপি যাতে কোনওভাবে অশান্তি বাধাতে না পারে, সেদিকে কড়া নজর রাখার বার্তা গিয়েছে দলের সব স্তরে।