Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গাছাড়া মনোভাব-আত্মতুষ্টি নয়, বুথে জয়ের মার্জিন বাড়াতে হবে, নেতা-কর্মীদের তৃণমূলের নির্দেশ

বিধানসভা ভোট এমনিই পার করে দেব, জিতে যাবে সহজেই—এই মনোভাব থেকে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের বেরিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছেন দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব।

গাছাড়া মনোভাব-আত্মতুষ্টি নয়, বুথে জয়ের মার্জিন বাড়াতে হবে, নেতা-কর্মীদের তৃণমূলের নির্দেশ
  • ৫ মার্চ, ২০২৬ ১৪:০৩
Prefer us on Google

রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: বিধানসভা ভোট এমনিই পার করে দেব, জিতে যাবে সহজেই—এই মনোভাব থেকে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের বেরিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছেন দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব। স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনকে হালকাভাবে নিলে চলবে না। এই নির্বাচনও একটি রাজনৈতিক যুদ্ধ। এই যুদ্ধে দলের সমস্ত কর্মীর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইই তৃণমূলের সাফল্য এনে দেবে।

Advertisement

বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা শীঘ্রই হতে পারে বলে খবর। যার জন্য ভোটকেন্দ্রিক প্রস্তুতি পুরোমাত্রায় শুরু করে দিয়েছে রাজ্যের শাসক দল। দলীয় প্রচার কর্মসূচি থেকে প্রার্থী তালিকা বাছাই, সব চলছে জোরকদমে। তবে জেলার কয়েকটি প্রান্ত থেকে তৃণমূলের রাজ্যস্তরের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে রিপোর্ট এসেছে, কয়েকজন নেতা ও কর্মী ভোটযুদ্ধে গাছাড়া মনোভাব নিয়ে চলছেন। তাঁদের মধ্যে এমন মনোভাব তৈরি হয়েছে যে, রাজ্যের শাসক দলে আছি বলে এবারের বিধানসভা ভোটও পার করে দেব, সহজে জিতে যাব। ফলে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পর কয়েকদিন প্রচার করলেই হয়ে যাবে।  কিন্তু ওই নেতা-কর্মীদের এমন মনোভাবের সঙ্গে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব মোটেই একমত নন। তাঁদের স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হয়েছে, সহজেই ভোটে জিতে যাব, এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসুন। ভোটটাকে রাজনৈতিক যুদ্ধ হিসেবে দেখে দায়িত্বের সঙ্গে সংগঠনের কাজ করুন।
কীভাবে ভোটযুদ্ধে নামতে হবে, তার বার্তা সোমবার নজরুল মঞ্চে দলের কর্মসূচি থেকে দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সাফ কথা, কোনোরকম আত্মতুষ্টি চলবে না। জয়ের মার্জিন বৃদ্ধি করুন। যদি কোনো বুথে তৃণমূল ১০০ ভোটে জিতবে, সেটা ২০০ করার চেষ্টা করুন। কোনো বিধানসভায় তৃণমূল ৩০ হাজার ভোটে জিতবে, সেটা ৪০ হাজার চেষ্টা করুন। প্রত্যেক বুথে তৃণমূলের সংগঠন শক্তিশালী করুন। 
বিশেষত তৃণমূলের মধ্যে অনেকেই এটা ধরে ফেলেছেন যে, বিরোধীরা ছন্নছাড়া। সিপিএমের সংগঠন নেই। বিজেপি ব্যাকফুটে। কংগ্রেস নিশ্চিহ্ন। ফলে শাসক দল তৃণমূলকে কে আটকাবে? মানুষের আস্থায় সহজ অঙ্কেই জিতে যাবে তৃণমূল। 
তবে দলীয় কর্মীদের কারো কারো এমন মনোভাবের সঙ্গে দল যে একমত নয়, সেটা তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের বক্তব্যের মধ্যে দিয়েই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এই বার্তাটা দিয়েছেন, মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের কথামতো কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। ফলে মানুষকে ভোটদানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম কেটে ফেলার চক্রান্ত চলছে। ফলে বিধানসভা ভোটকে সহজভাবে নেওয়া যাবে না। ভোটপ্রক্রিয়া চলা এবং আগামী দিনে আরো কোনো চক্রান্ত বিজেপি করতে পারে। সেই কারণে সবদিকে তৃণমূল কর্মীদের তীক্ষ্ণ নজর রাখা জরুরি। 
ওই সূত্রে সোমবার নজরুল মঞ্চে দলের কর্মসূচিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে স্পষ্টভাবে বলেছেন, আগামী দুমাস কঠিন সময়। এইসময় সবাইকে পরিশ্রম করতে হবে। ২৪ ঘণ্টায়, খাওয়া-ঘুম বাদ দিয়ে, বাকি সময়টা বাংলার জন্যই দিন। বাংলার মানুষের জন্য দিন। বাংলার মানুষের পাশে থাকুন। তৃণমূলের সংগঠনকে শক্তিশালী করুন। অভিষেকের টার্গেট, বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে ৫০ আসনের নীচে নামাতেই হবে।
দলীয় সূত্রে খবর, কলকাতা হোক জেলা, তৃণমূলের নেতা ও জনপ্রতিনিধি ও দলীয় পদাধিকারীরা দলের স্বার্থে আগামী দুমাস কেমন কাজ করবেন, তার দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখা হবে। তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক এই বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে একটি রিপোর্ট দেবে।

সম্পর্কিত সংবাদ