নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ‘বিজেপি বাংলার মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। রাজ্যকে উন্নয়নের টাকা না দেওয়া, শ্রমিকদের বিপদে ফেলার শ্রমনীতি চালু এবং এসআইআর হল এই যুদ্ধে তাদের হাতিয়ার। আমাদের প্রচারে এই বিষয়গুলি গুরুত্ব পাবে। কারণ, এবারের নির্বাচন বাংলার মানুষ, বাংলাভাষী মানুষের সুরক্ষার নির্বাচন।’ প্রার্থী হওয়ার পর প্রথমবার শ্রীরামপুরে এসে এভাবেই প্রচারের সুর বেঁধে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অধ্যাপক তন্ময় ঘোষ। শ্রীরামপুরে এখনও বিজেপি প্রার্থী ঘোষণা না করতে পারায় মৃদু কটাক্ষও ছুড়ে দেন তিনি। যদিও পালটা বিজেপির দাবি, শ্রীরামপুর ও রিষড়া শহরজুড়ে অনিয়মের ফাঁদ পেতে বসেছে তৃণমূল। শিক্ষকদের চাকরি কেড়ে নেওয়া থেকে নারী ধর্ষকদের মদত দেয় ঘাসফুল সরকার। এসবই থাকবে তাদের প্রচারে।
সিপিএম নেতৃত্বও এসআইআর করে বাংলার মানুষকে সংকটে ফেলার প্রসঙ্গ প্রচারে রাখছে। পাশাপাশি, শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, সরকারি কর্মীদের ডিএ বিতর্কও বামেরা প্রচারে রাখতে চায়। বুধবার প্রথমে শ্রীরামপুর ও পরে রিষড়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন তৃণমূল প্রার্থী তন্ময়। পরে তিনি বলেন, ‘বাম জমানা থেকে শ্রীরামপুর বিধানসভার মানুষ তৃণমূলকে সমর্থন করেছেন। সেই ইতিহাস আমাদের অনেক বড়ো শক্তি। এসআইআর ষড়যন্ত্র, বাংলার পাওনা ২ লক্ষ কোটি টাকা আটকে দেওয়া, শ্রমিক বিরোধী নীতি চালু করা—সবই বাংলা ও বাঙালির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা। আমরা মনে করি, এই ভোট বাংলার এবং বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে যাবতীয় ষড়যন্ত্রের জবাব দেওয়ার ভোট। একদা এই শ্রীরামপুর বিধানসভাতেই বাংলা হরফ তৈরি হয়েছে, নবজাগরণ হয়েছে। সেই বিধানসভা থেকে নতুন এক জাগরণের সুর তুলে ধরতে হবে।’ এক প্রশ্নের উত্তরে তৃণমূল প্রার্থী বলেন, ‘পদ্মপার্টি তো এখনও প্রার্থীকেই সামনে আনতে পারেনি। আমার মনে হয়, কেউ প্রার্থী হতে চাইছেন না। কারণ, সকলেই জানেন বাংলার রায় কাদের সঙ্গে আছে।’ তন্ময়বাবু প্রচারের সুর সাধতেই ময়দানে নেমেছে বিজেপি। বিজেপির রাজ্যনেতা স্বপন পাল বলেন, ‘বাংলার মানুষকে সবদিক থেকে বঞ্চিত করেছে তৃণমূল। চাকরি চুরি, সরকারি কর্মীদের ডিএ বঞ্চনা আমাদের ইস্যু। রিষড়া ও শ্রীরামপুর পুরসভার মাধ্যমে প্রোমোটাররাজ জাঁকিয়ে বসার সুযোগ পেয়েছে। মাটি মাফিয়াদের রমরমা শ্রীরামপুর বিধানসভায়। সেগুলিও প্রচারে থাকবে।’
অন্যদিকে, সিপিএমের রাজ্যনেতা দেবব্রত ঘোষ বলেন, ‘এসআইআরের মাধ্যমে মানুষের হেনস্তার বিষয়টি প্রচারে থাকবে। বিজেপি এবং তৃণমূল, উভয় দলই মানুষের স্বার্থবিরোধী নীতিতে চলে। মানুষের কাছে সেই সত্য তুলে ধরা হবে প্রচারে।’ রাজ্যের প্রধান বিরোধী বিজেপি এখনও এই কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম ঘোষণা না করলেও শ্রীরামপুরের ভোটের হাওয়া এখন থেকেই সরগরম।