


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বালি অঞ্চলে তিনি তৃণমূলের যুব সংগঠনের অন্যতম ‘মুখ’। বর্ষার সময় কখনো নিজে দাঁড়িয়ে থেকে জমা জল সরানোর ব্যবস্থা করেছেন, কখনো আবার আবর্জনা সাফাই না হওয়ার জন্য বাসিন্দাদের বিক্ষোভ সামাল দিয়েছেন সামনে থেকে। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর প্রথম দিনের প্রচারেও একইরকম সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গেল বালির তৃণমূল প্রার্থী কৈলাশ মিশ্রকে। বুধবার সকালে বালি ও লিলুয়ার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে জনসংযোগ সারেন তিনি। সাধারণ মানুষ মূলত আবর্জনা সাফ না হওয়া এবং বেহাল নিকাশি নিয়ে অভিযোগ করেন তাঁর কাছে। সমাধানের আশ্বাস দেন তৃণমূল প্রার্থী। বালিজুড়ে নাগরিক পরিষেবার বেহাল দশা নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে পালটা প্রচার শুরু করে দিয়েছেন বাম প্রার্থী শংকর মৈত্র।
বুধবার সকালে জনসংযোগ কর্মসূচি নিয়ে রাস্তায় নামেন কৈলাশ। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাওয়ার বদলে স্থানীয়দের সমস্যার কথা শোনাতেই বেশি সময় দেন তিনি। বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত এক বছরে বালি পুরসভার উদ্যোগে শহরের অনেক ওয়ার্ডে সাফাই কাজে কিছুটা গতি এলেও লিলুয়ার একাধিক ওয়ার্ডে এখনো আবর্জনা ও নিকাশি সমস্যা তীব্র। সম্প্রতি চাঁদমারি ভাগাড়ে অগ্নিকাণ্ডের ফলে কয়েকদিন আবর্জনা সংগ্রহের কাজ বন্ধ থাকায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় আবর্জনা জমে ওঠে। এদিন লিলুয়ার পঞ্চাননতলা এলাকায় জনসংযোগে গেলে তৃণমূল প্রার্থীকে ঘিরে ধরেন বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, পঞ্চাননতলা, কুমোরপাড়া সহ একাধিক এলাকায় দিনের পর দিন আবর্জনা সংগ্রহ করা হয় না। রাস্তায় ছড়িয়ে থাকা সেই আবর্জনা নিকাশিতে মিশে নোংরা জল উপচে রাস্তায় চলে আসছে। ভোগান্তি বাড়ছে সাধারণ মানুষের।
এ প্রসঙ্গে কৈলাশ মিশ্র বলেন, ‘ভোট পরে চাইব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ, মানুষের কাজ সবার আগে করতে হবে। পুরসভার সঙ্গে কথা হয়েছে। পাঁচ দিনের মধ্যেই আবর্জনা পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে আশ্বাস পেয়েছি।’ পাশাপাশি, লিলুয়া এলাকায় প্রায় দু’বিঘা জমিতে একটি নির্দিষ্ট সেকেন্ডারি কালেকশন পয়েন্ট তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে তৃণমূল প্রার্থীর এই উদ্যোগকে ‘ভোটের গিমিক’ বলে কটাক্ষ করেছেন সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ও বালি বিধানসভার বাম প্রার্থী শংকর মৈত্র। তাঁর অভিযোগ, ‘বালির রাস্তাঘাট কার্যত ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। নিকাশি থেকে শুরু করে পুরস্বাস্থ্য, সব ক্ষেত্রেই পরিষেবা বিপর্যস্ত। ভোট ঘোষণা হতেই আবর্জনা সাফাই নিয়ে তৃণমূলের এই তৎপরতা আসলে ফাঁকা আওয়াজ ছাড়া কিছু নয়। এত বছর পুর নির্বাচন না করিয়ে নাগরিক পরিষেবার কাঠামোটাই ভেঙে ফেলা হয়েছে।’