নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বড় রোড শো এড়িয়ে, পায়ে হেঁটে প্রচারে জোর দিচ্ছেন বসিরহাট দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী। শহরের অলিগলি, পাড়া থেকে বাজার—ভোটারদের দরজায় কড়া নেড়ে সরাসরি যোগাযোগই তাঁর ভরসা। দলীয় সূত্রের দাবি, এই ধরনের প্রচারে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দ্রুত সম্পর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ-অভিমান শোনা যায় কাছ থেকে। তাই শহরাঞ্চলকে প্রাধান্য দিয়েই আপাতত প্রচারের গতি বাড়িয়েছেন তিনি। তবে, এনিয়ে বিজেপির দাবি, আসলে মানুষ সঙ্গে না থাকলে যা হওয়ার সেটাই হচ্ছে। এবার বসিরহাটের মানুষ তৃণমূলকে সরাবে।
জানা গিয়েছ, বসিরহাট লোকসভার মিনাখাঁ বিধানসভা ছাড়া প্রতিটি বিধানসভায় প্রার্থী বদল করেছে তৃণমূল। বসিরহাট দক্ষিণে তৃণমূলের বিধায়ক ছিলেন ডাঃ সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর জায়গায় এখানে জোড়াফুলের প্রার্থী হয়েছেন সুরজিৎ মিত্র ওরফে বাদল। সপ্তর্ষিবাবু দলের প্রার্থীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। প্রার্থীকে নিয়ে সাংগঠনিক বৈঠকও করেছেন। দলীয় ঐক্যের এই বার্তা ভোটের লড়াইয়ে তৃণমূলের জন্য বাড়তি শক্তি হিসাবেই দেখছেন অনেকে। তবে ভোটপ্রচারের ক্ষেত্রে গ্রামাঞ্চলকেও ছেড়ে দিচ্ছে না তৃণমূল। সেখানে বড় সভার বদলে ছোট ছোট কর্মিসভা, ঘরোয়া বৈঠকের মাধ্যমে সংগঠনকে চাঙা রাখার চেষ্টা চলছে।
এনিয়ে তৃণমূল প্রার্থী সুরজিৎবাবুর কথায়, প্রতি জায়গায় প্রচারে মানুষের ভিড় উপচে পড়ছে। দিনে শহর হলে, বিকেলে গ্রামে প্রচার হচ্ছে পায়ে হেঁটেই। প্রচারের মূল অস্ত্র উন্নয়ন। আসলে আমি দীর্ঘদিন রাজনীতি করার সুবাদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ফল প্রচারে পাচ্ছি। এই প্রচার পদ্ধতিকে অবশ্য আক্রমণ করতে ছাড়ছে না বিজেপি। বিজেপি নেতা পলাশ সরকার বলেন, তৃণমূলের যিনি প্রার্থী হয়েছেন, তাঁর স্ত্রী বসিরহাট পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। কিন্তু তাঁকে দুর্নীতির অভিযোগে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই প্রার্থীর মুখে অন্তত উন্নয়নের বুলি মানায় না।