


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শ্যামপুকুর বিধানসভা কেন্দ্রের অলিগলির দেওয়ালে লেখা, ‘শশীদিকে আবার চাই।’ এবারও এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন শশী পাঁজা। গত পাঁচ বছরে এলাকার উন্নয়ন এবং বিধায়ক হিসাবে পরিষেবা দিয়ে তিনি এলাকার মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন বলেই দাবি তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের। তাঁদের কথায়, ‘এই বিধানসভার অন্তর্গত প্রতিটি ওয়ার্ডেই রাস্তাঘাট, পানীয় জল, আলো সহ নানা পরিষেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তৃণমূল প্রার্থী উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন। একাধিক পার্ক সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি ঝাঁচকচকে নানা মডেল দিয়ে রাস্তার ধারগুলিকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে।’ তৃণমূলের বর্তমান বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, ‘আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি আন্তরিকতার সঙ্গে মানুষকে পরিষেবা দিতে। বিভিন্ন ওয়ার্ডে পানীয় জল, নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটেছে। আমার বিধানসভার মধ্যে থাকা স্কুল‑কলেজ সহ প্রতিষ্ঠানগুলির সামগ্রিক উন্নয়ন হয়েছে। তাই জয়ের ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। মানুষ আমাকে আর্শীবাদ করবেনই।’
কথা হচ্ছিল রবীন্দ্র সরণির বাসিন্দা সুমনা কর্মকারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদের এলাকার কোনো রাস্তা এখন আর কাঁচা নেই। নেই পানীয় জলের সমস্যা। কোনো এলাকা এখন অন্ধকারে ডুবে থাকে না। প্রতিটি মন্দির ও পাশ্ববর্তী এলাকা আলো দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে।’ বাগবাজার স্ট্রিটের বাসিন্দা শুভেন্দু চক্রবর্তী বলছিলেন, ‘এই অঞ্চল হল শিল্প‑সংস্কৃতির পীঠস্থান। তাকে নানাভাবে মানুষের কাছে তুলে ধরতে বিধায়ক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন। এর পাশাপাশি, সাধারণ মানুষ যেভাবে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুযোগ‑সুবিধা পেয়েছেন, তা এক কথায় নজির বলা যেতে পারে। এই সরকারের উন্নয়নকে কীভাবে অস্বীকার করব?’ শ্যামপুকুরের কাছে মদনমোহনতলা স্ট্রিটের বাসিন্দা দীপক সাউ বলেন, ‘আমাদের এলাকায় সবক্ষেত্রেই উন্নয়ন হয়েছে। বাজারঘাট, গঙ্গার ধারগুলিকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। যা আমাদের কাছে গর্ব করার মতোই।’
এবার এই বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী পূর্ণিমা চক্রবর্তী। তিনি এই বিধানসভা কেন্দ্রের উন্নয়ন ও পরিষেবা সংক্রান্ত ব্যর্থতার কথা তুলে ধরছেন তাঁর প্রচারে। তাঁর কথায়, ‘প্রচুর সমর্থন পাচ্ছি। তাই এই কেন্দ্র থেকে মানুষ আমাকে জয়ী করবেন বলে আমার স্থির বিশ্বাস।’ এই কেন্দ্রের বামফ্রন্ট প্রাথী ঝুমা দাস তাঁর প্রচারে বলছেন, ‘গত পাঁচ বছরে এই বিধানসভা কেন্দ্রে কোনো উন্নয়ন হয়নি। মানুষ আমাকে সুযোগ দিলে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন হবে।’
সব মিলিয়ে এলাকার উন্নয়ন ইস্যুতেই জমে উঠেছে শ্যামপুকুরে তৃণমূলের ভোটপ্রচার। তারই প্রতিফলন দেখা গেল এই বিধানসভার কেন্দ্রের প্রতিটি ওয়ার্ডের দেওয়াল লিখন ও প্রচারে।