নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অব্যাহত রইল নির্বাচন কমিশনের ‘বদলি-বোমা’! এবার সরিয়ে দেওয়া হল রাজ্যের ১১ জেলাশাসক সহ মোট ১৩ জন আইএএস অফিসারকে। এখানেই থেমে নেই জ্ঞানেশ কুমাররা। ডিএম বদলের নির্দেশিকা জারির আগে, বুধবার সকালে পাঁচ ডিআইজিকেও অপসারণ করেছে কমিশন। তাদের সৌজন্যে এপর্যন্ত বঙ্গ প্রশাসনের ৪৩ শীর্ষকর্তার বদলি হল, যা কার্যত বেনজির!
ভোট ঘোষণার দিন অর্থাৎ রবিবার মধ্যরাত থেকেই বদলির নির্দেশ জারি করতে শুরু করে কমিশন। প্রথমে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব। তারপর সোমবার ডিজি, কলকাতা পুলিশ কমিশনার, ডিজি (কারা) এবং ডিজি (আইন-শৃঙ্খলা)। মঙ্গলবার একঝাঁক পুলিশ কমিশনার-এসপিকে বদল করা হয়েছে। আর এদিন সরিয়ে দেওয়া হল জেলাশাসকদের। পদাধিকার বলে তাঁরাই সংশ্লিষ্ট জেলার নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা শীর্ষ কর্তা বা জেলা নির্বাচনি আধিকারিকের (ডিইও) ভূমিকা পালন করে থাকেন। এমন ১৩ জন শীর্ষস্তরের আধিকারিককে এবার বদল করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এদিন ১১ জন নতুন জেলাশাসক নিয়োগ করেছে কমিশন। এছাড়াও রায়গঞ্জ, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, জলপাইগুড়ি এবং প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের ডিআইজি পদে আনা হয়েছে নতুন আধিকারিকদের। যাঁদের পদ থেকে সরানো হল, নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না-হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ভোট সংক্রান্ত কোনো কাজে নিযুক্ত করা যাবে না।
উত্তর ও দক্ষিণ, দুই কলকাতার ডিইওকেও এদিন বদল করা হয়েছে। সাধারণত এই পদে কোনো দপ্তরের আইএএস পদমর্যাদার আধিকারিককে কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণের ডিইও করা হয়। দিনকয়েক আগেই কমিশন জানিয়েছিল, এবার থেকে পুরসভার কমিশনারই উত্তর কলকাতার ডিইও নিযুক্ত হবেন। এদিন সেই পুর কমিশনার অংশুল গুপ্তের জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্মিতা পান্ডেকে। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে তিনিই ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের ডিইও। নন্দীগ্রাম কেন্দ্রের গণনা নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই স্মিতাই এবার উত্তর কলকাতার ডিইও।
কলকাতা দক্ষিণের ডিইও করা হয়েছে আইএএস আধিকারিক রণধীর কুমারকে। তাৎপর্যপূর্ণ হল, স্মিতা ও রণধীর এসআইআর পর্বে রোল অবজার্ভার হিসাবে কাজ করেছেন। একই ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল এদিন মুর্শিদাবাদের ডিইও নিযুক্ত হওয়া আর অর্জুনকে। সিইও দপ্তরে কাজ করা এক আধিকারিককেও ডিইও করা হয়েছে।



