Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পরপর ট্রাফিক সিগন্যালের যন্ত্রাংশ চুরি, ধৃত চক্রের চাঁই

এজেসি বোস রোড ও বেলভেডিয়ার রোডের সংযোগস্থল, ডি এল খান রোড ক্রসিং বা পিজি হাসপাতালের সামনে—একের পর এক ট্রাফিক সিগন্যাল বিকল হচ্ছে।

পরপর ট্রাফিক সিগন্যালের যন্ত্রাংশ চুরি, ধৃত চক্রের চাঁই
  • ১৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এজেসি বোস রোড ও বেলভেডিয়ার রোডের সংযোগস্থল, ডি এল খান রোড ক্রসিং বা পিজি হাসপাতালের সামনে—একের পর এক ট্রাফিক সিগন্যাল বিকল হচ্ছে। কারণ, সিগন্যালের কানেক্টর বক্স থেকে ফিউজ চুরি হয়ে যাচ্ছে। এসব রাস্তা দিয়েই মুখ্যমন্ত্রী সহ একাধিক ভিভিআইপির নিত্য যাতায়াত। সেখানে হঠাৎ হঠাৎ ট্রাফিক সিগন্যাল বিগড়ে যাওয়ায় যানজট হচ্ছে। সেই জট ছাড়াতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছিল পুলিসকে। তাই সিগন্যাল বক্স থেকে  বারবার চুরির কিনারা করতে কোমর বেঁধে নেমেছিল হেস্টিংস থানা। শেষ পর্যন্ত চক্রের পান্ডাকে পাকড়াও করেছে তারা। ধৃতের নাম শেখ সলমান। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিস। 

Advertisement

সূত্রের খবর, সম্প্রতি ভবানীপুর ট্রাফিক গার্ডের পুলিস খেয়াল করে, তাদের এলাকার বিভিন্ন ট্রাফিক সিগন্যালের কানেক্টর বক্স খোলা থাকছে। সকালে ডিউটি করতে এসে পুলিসকর্মী দেখছেন, সিগন্যাল কাজ করছে না। বিদ্যুৎ পৌঁচ্ছছে না সিগন্যালগুলিতে। কানেক্টর বক্সের তার ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। ফিউজ, কেবল উধাও। হেস্টিংস থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর তদন্তে নামে পুলিস। তদন্তকারীরা দেখেন, পিজি হাসপাতালের সামনে সহ কয়েকটি এলাকায় বারবার এই ঘটনা ঘটছে। নতুন ফিউজ লাগানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। সিগন্যাল বিকল হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। তখন এসব এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। তা খতিয়ে দেখে পুলিস জানতে পারে, এক ব্যক্তি সাইকেল নিয়ে নিয়মিত রাত ৩টে নাগাদ ওই এলাকায় আসছে। কানেক্টর বক্স খুলে সেখান থেকে সামগ্রী চুরি করছে। সেই ফুটেজ বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়। গোপন সূত্রে পুলিস জানতে পারে, অভিযুক্তের বাড়ি জিনজিরা বাজার এলাকায়। হেস্টিংসে তার এক আত্মীয়ের কাছে সে মাঝেমধ্যে থাকে। সোমবার সে আবারও হেস্টিংস এলাকায় আসবে বলে জানতে পারে পুলিস। সেই মতো আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল পুলিস। সলমন সেখানে পৌঁছতেই গ্রেপ্তার করে পুলিস।
ধৃতকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, ওই এলাকায় তার অনেকদিন ধরে যাতায়াত। কোথায় কোথায় ট্রাফিকের কানেক্টর বক্স রয়েছে, আগে ঘুরে দেখে নিত সে। নিজে ইলেকট্রিকের কাজ জানায় রাতে এসে সহজেই ফিউজ, কেবল সহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ খুলে নিত। তারপর সেগুলি সে বিক্রি করে দিত। পুলিস আরও জেনেছে, সলমন একা নয়, তার সঙ্গে আরও অনেকে রয়েছে, যারা একই কায়দায় বিভিন্ন জায়গায় চুরি করছে। তাদের খোঁজ করছে পুলিস।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ