নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দোল-হোলি উৎসব কাটল ঝকঝকে আকাশ নিয়েই। তবে চলতি সপ্তাহের শেষ এবং আগামী সপ্তাহের গোড়ার দিকে রাজ্যের কয়েকটি জেলায় ফের ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঝড়বৃষ্টি হতে পারে ৮-১০ মার্চের মধ্যে। এইসময়ে এক বা একাধিক দিন ঝড়বৃষ্টি হতে পারে দক্ষিণবঙ্গের দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, দুই বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, নদীয়া, হুগলি ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়। এই সময় ঝড়বৃষ্টি হতে পারে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলাতেও। আলিপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ওই সময় বায়ুমণ্ডলে বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প বেশি মাত্রায় ঢুকবে। পাশাপাশি নিম্নচাপ অক্ষরেখা বা ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হতে পারে। এর প্রভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হবে।
আপাতত কলকাতা ও লাগোয়া এলাকায় ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি। আলিপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সৌরীশ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এখনো কয়েকদিন বাকি আছে। পূর্বাভাস আরো নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে পরে। তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হলে কলকাতা ও লাগোয়া এলাকায় তা চলে আসতেই পরে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, মার্চ মাস থেকে বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে ঝড়বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে থাকে। মে মাস পর্যন্ত এটা চলে। এপ্রিল-মে মাস পাশাপাশি ঘৃর্ণিঝড় প্রবণ হিসেবেও চিহ্নিত। এইসময় বঙ্গোপসাগরে কোনো নিম্নচাপ তৈরি হলে তা শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রাক বর্ষা মরশুমের ঘূর্ণিঝড়ের সময় আসতে এখনো দেরি আছে। তবু বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে এখন ঝড়বৃষ্টি হতে পারে মাঝেমধ্যে। তাপমাত্রা বাড়ছে। ইতিমধ্যে দক্ষিণবঙ্গের অনেক জায়গায়, বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলে জেলাগুলিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫-৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির দরুন বৃষ্টি, ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হওয়া প্রভৃতি বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টির আরো একটি অনুকূল পরিস্থিতি। ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশার দিকে তাপমাত্রা বাড়ছে। সাধারণত ওইদিকে বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টি হয়ে দক্ষিণবঙ্গের দিকে আসে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হলে রেডার চিত্র বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেওয়া হয়। এইসময় বজ্রপাতের আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হলে খোলা জায়গায় থাকার ব্যাপারে সর্তক থাকতে হবে।
পশ্চিমাঞ্চলের তুলনায় কলকাতায় এখন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কিছুটা কম, ৩২-৩৩ ডিগ্রির আশপাশে। জলীয় বাষ্প বায়ুমণ্ডলের নীচের স্তরে বেশি মাত্রায় থাকার ফলে কয়েকদিন আগে সাময়িকভাবে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বেড়ে ২৪-২৫ ডিগ্রি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি না-থাকার দরুন এখন সর্বনিম্ন পরিস্থিতি ২০-২১ ডিগ্রির আশপাশে। কলকাতার কাছে কল্যাণীতে এদিনও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে কম সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (১৫ ডিগ্রি) ছিল। জেলাগুলির কোনো কোনো জায়গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিছুটা কম থাকায় ভোর ও রাতের দিকে হালকা শীত অনুভূত। উত্তরবঙ্গের সমতল এলাকার মধ্যে সবচেয়ে কম সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল আলিপুরদুয়ারে—১৪ ডিগ্রি।