ওয়েবসিরিজ সমালোচনা: মিসেস দেশপাণ্ডে
ওয়েবসিরিজ সমালোচনা: মিসেস দেশপাণ্ডে
মাধুরী দীক্ষিত • সিদ্ধার্থ চান্দের
প্রিয়াংশু চট্টোপাধ্যায় • দীক্ষা জুনেজা
হায়দরাবাদের সংশোধনাগারে বেশ জনপ্রিয় কয়েদি জিনত। প্রায় বিশ বছর ধরে একই সংশোধনাগারে থাকে সে। রান্নাবান্নার দায়িত্বও তার কাঁধে। কয়েদি হলেও বাকিরা তার কথা শুনে চলে, দেখে মনে হবে এমনটাই। অথচ তার আসল নাম জিনত নয়। একই জায়গায় তার সঙ্গে বন্দি আছে যারা, তারাও স্পষ্ট ভাবে জানে না, কী কারণে জিনত এত বছর জেল খাটছে!
পরিচালক নাগেশ কুকুনুর খানিকটা এইভাবেই শুরুতে পরিচয় দিয়ে দেন তাঁর ‘মিসেস দেশপাণ্ডে’ সিরিজের মূল কান্ডারি মাধুরী দিক্ষিতের। ‘ওটিটি’তে এটি তাঁর তৃতীয় সিরিজে অভিনয়। পরিচালক জানতেন, যে বিখ্যাত ফরাসি থ্রিলারের (লা মান্তে) অভিযোজন তিনি করতে চলেছেন, তার জন্য প্রয়োজন এক জনপ্রিয় মুখ, যিনি অভিনয়েও দক্ষ।
চিত্রনাট্য অনুযায়ী, মুম্বইয়ে নতুন সিরিয়াল কিলারের আবির্ভাব হওয়ায় মুম্বই পুলিশ কমিশনার অরুণ (প্রিয়াংশু চ্যাটার্জি) দেখা করতে আসে জিনতের সঙ্গে। কারণ এবারের সিরিয়াল কিলার জিনতের ‘কপি ক্যাট’। ঠিক যেভাবে কয়েক বছর আগে জিনত আটটি মানুষ খুন করেছিল, অবিকল সেই পদ্ধতি অনুকরণ করে করা হচ্ছে বর্তমান খুনগুলিও। খুনিকে ধরতে সাহায্য করতে রাজি হয় জিনত। তবে একটা শর্তে। আর সেই শর্ত মেনেই শুরু হয় তদন্ত।
২০১৭-এ ‘নেটফ্লিক্স’-এ ‘লা মান্তে’ বা সম্প্রতি কোরিয়ান সিরিজ ‘কুইন ম্যান্টিস’ যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা জানেন গল্প কোনদিকে এগবে। কিন্তু যাঁরা দেখেননি, তাঁদের এই গল্পের গতি খানিক টানটানই মনে হবে। মূল গল্প মোটামুটি একই রেখেছেন পরিচালক। তবে গল্প কখন কোনদিকে মোড় নেবে, বা কোন সত্য কখন সামনে আসবে— সেই বিষয়ে সামান্য বদল এনেছেন। ছয় এপিসোডের এই সিরিজে ক্রমশ সামনে আসে জিনতের আসল নাম সীমা দেশপাণ্ডে, এবং কেন সে খুনগুলি করেছিল। বর্তমান খুনি কি শুধুই তার পথ অনুসরণকারী, নাকি তারও এই পথ বেছে নেওয়ার পিছনে লুকিয়ে আছে অন্য কারণ?
সিরিয়াল কিলার অথচ এতগুলি অপরাধের জন্য বিশেষ অনুতাপ নেই— এরকম চরিত্রে মাধুরী দীক্ষিতের অভিনয়ের প্রধান হাতিয়ার তাঁর শান্ত মুখের উজ্জ্বল হাসি। তবে অভিনয়ের দক্ষতা কিছু ক্ষেত্রে মেকআপের প্রলেপে চাপা পড়েছে। বরং এসিপির চরিত্রে সিদ্ধার্থর কাজ অনেক বেশি স্বতঃস্ফূর্ত। ভালো লাগে প্রিয়াংশু চ্যাটার্জি, দীক্ষা জুনেজা এবং নিমিশা নায়ারের অভিনয়। তবে থ্রিলারের গতি মাঝেমধ্যেই হোঁচট খেয়েছে। সেদিকে আরও নজর দিতে পারতেন পরিচালক। মূল গল্পের প্রতি বিশ্বস্ত থাকলেও বেশ কিছু ছোটখাট সাব-প্লট এবং চিত্রনাট্যের খুঁটিনাটি বাদ দিয়েছেন তিনি। এ কারণে অনেক জায়গায় গল্পের গতি হতাশাজনক।
দেবত্রী ঘোষ