Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বেপরোয়া গতির পুলকার পুকুরে, মর্মান্তিক মৃত্যু তিন পড়ুয়ার

স্কুল ছুটির পর পড়ুয়াদের একে একে নামিয়ে আসছিল পুলকার। আর পাঁচটা দিনের মতোই সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। কয়েকজনকে নামিয়ে দেওয়ার পর গাড়িতে তখনও বসে পাঁচ খুদে।

বেপরোয়া গতির পুলকার পুকুরে, মর্মান্তিক মৃত্যু তিন পড়ুয়ার
  • ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: স্কুল ছুটির পর পড়ুয়াদের একে একে নামিয়ে আসছিল পুলকার। আর পাঁচটা দিনের মতোই সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। কয়েকজনকে নামিয়ে দেওয়ার পর গাড়িতে তখনও বসে পাঁচ খুদে। মুহূর্তে ঘটে গেল ভয়াবহ দুর্ঘটনা! আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুলকার গিয়ে পড়ে রাস্তার পাশের এক পুকুরে। ডুবন্ত গাড়ি থেকে কোনওক্রমে বেরিয়ে আসতে পারে দুই শিশু। কিছুক্ষণ পর বাকি তিন খুদের নিথর দেহ উদ্ধার হয়। সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে উলুবেড়িয়া ১ নং ব্লকের বহিরা শ্মশানতলায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত তিন পড়ুয়া হল নার্সারির অরিন দে (৬), কেজি ওয়ানের ইশিকা মণ্ডল (৭) এবং চতুর্থ শ্রেণির শৌভিক দাস (১১)। প্রত্যেকের বাড়িই বহিরা গ্রামে। প্রত্যেকেই জগদীশপুরের একটি বেসরকারি স্কুলের পড়ুয়া। প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনাস্থলের আশপাশের বাসিন্দাদের দাবি, পুলকারটির বেপরোয়া গতির জন্যই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের আরও অভিযোগ, গাড়ির চালক নিজেকে বাঁচাতেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন। তিনি আরেকটু তৎপর হলে হয়তো খুদে পড়ুয়াদের মৃত্যু ঠেকানো যেত। শোকের ছায়া নেমে এসেছে বহিরা গ্রামে। এদিন সন্ধ্যায় পুলিশ শ্রীমন্ত বাগ নামে ওই পুলকার চালককে গ্রেফতার করে।  

Advertisement

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্যান্য দিনের মতো এদিনও পড়ুয়াদের নিয়ে পুলকারটি বহিরার দিকে যাচ্ছিল। বহিরা শ্মশানতলার কাছে এক পড়ুয়াকে নামিয়ে দেওয়ার পর গাড়িতে ছিল পাঁচ পড়ুয়া। তাদের নিয়ে এগনোর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে পুকুরে উলটে যায় পুলকার। গাড়ির সামনের সিটে বসে থাকা এক পড়ুয়া সহজেই বেরিয়ে আসতে পারে। প্রিয়ম বাগ নামে আরেক পড়ুয়া গাড়ির কাচ নামিয়ে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়। বাকি তিনজন আটকে পড়ে গাড়িতেই। প্রত্যক্ষদর্শীদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তিন খুদেকে উদ্ধার করে উলুবেড়িয়া শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। 
দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছয় উলুবেড়িয়া থানার পুলিশ। চলে আসেন উলুবেড়িয়ার এসডিপিও শুভম যাদব, স্থানীয় বিডিও এইচ এম রিয়াজুল হক। বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরের চারিদিকে মানুষের ভিড়। একপাশে রাখা হয়েছে গাড়িটি। পাড়ে পড়ে আছে জলের বোতল, জুতো। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন ১১-১২ জন পড়ুয়াকে নিয়ে পুলকারটি যাতায়াত করে। তাঁদের অভিযোগ, দ্রুত গতিতে চালানোর ফলেই এই দুর্ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শী সুমনা খাঁড়া বলেন, ‘দু’জন বেরিয়ে আসতে পারলেও পিছনের সিটের তিনজন আটকে পড়েছিল। এই জায়গাটি তুলনামূলক ফাঁকা। তাই উদ্ধারের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তেও দেরি হয়েছে।’ ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে যান মন্ত্রী পুলক রায়। তিনি মৃত পড়ুয়াদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন ও সহমর্মিতা জানান। দীর্ঘক্ষণ তিনি হাসপাতালে ছিলেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ