Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ফলওয়ালা-সবজিওয়ালার ইউপিআই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার, ‘লেনদেন’ সূত্রেই জালে তিন গ্যাংস্টার

কখনও হাওড়ার ফল বিক্রেতা, কখনও সবজিওয়ালা। আবার কখনও পার্ক স্ট্রিট থানা এলাকার হোটেলের রিসেপশনিস্ট। আপাত নিরীহ মানুষগুলোর অ্যাকাউন্টে পরপর ঢুকছিল টাকা।

ফলওয়ালা-সবজিওয়ালার ইউপিআই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার, ‘লেনদেন’ সূত্রেই জালে তিন গ্যাংস্টার
  • ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: কখনও হাওড়ার ফল বিক্রেতা, কখনও সবজিওয়ালা। আবার কখনও পার্ক স্ট্রিট থানা এলাকার হোটেলের রিসেপশনিস্ট। আপাত নিরীহ মানুষগুলোর অ্যাকাউন্টে পরপর ঢুকছিল টাকা। হঠাৎ কেন পাঞ্জাব থেকে  টাকা যাচ্ছে এহেন লোকজনের কাছে? লেনদেনের ট্রেল খুঁজতে গিয়ে সন্দেহজনক কয়েকটি ইউপিআই অ্যাকাউন্ট থেকে কুখ্যাত গ্যাংস্টার বলবিন্দর সিং ওরফে ‘ডোনি বল’এর নাম পাঞ্জাব পুলিশের সামনে আসে। সেখানকার গোয়েন্দরা নিশ্চিত হন, গত ১৫ ডিসেম্বর মোহালির কাছে সোহানা থানা এলাকায় ম্যাচ চলাকালীন খুন হওয়া কবাডি খেলোয়াড় কানোয়ার দিগ্বিজয় সিং ওরফে রানা বালাচৌরিয়া কাণ্ডে জড়িতরা খুনে ডোনি বল গ্যাংয়ের শার্প শ্যুটাররা হাওড়া বা কলকাতার কোথাও রয়েছে।  পুলিশ তাদের পিছু ধাওয়া করছে, বুঝে কলকাতায় এসে চুল-দাড়ি কেটে চেহারা পালটানোর চেষ্টা চালায় ডোনি বল গ্যাংয়ের তিন শার্প শ্যুটার।  তাতেও শেষ রক্ষা হল না। বাংলার এসটিএফের সাহায্যে রবিবার রাতে হাওড়া স্টেশন থেকে ধরা পড়ে তিন শার্প শ্যুটার। প্রসঙ্গত, রানা বালাচৌরিয়া খুনের দায় স্বীকার করে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিল ডোনি বল। আরেক কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ‘চর’ সন্দেহে খুন করা হয় ওই কবাডি খেলোয়াড়কে।

Advertisement

রানা খুনের পরই অভিযুক্ত তিন শার্প শ্যুটার পালিয়ে যায়। এই পর্বে টাকা তো লাগবে। সূত্র সন্ধানে ন্যাশানাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার (এনপিসিআই) সাহায্য নেয় পাঞ্জাব পুলিশ। সন্দেহজনক কতগুলি ইউপিআই অ্যাড্রেস দিয়ে তারা এনপিসিআইয়ের কাছে জানতে চায়, এগুলি কারা ব্যবহার করছে, কী তাদের মোবাইল নম্বর, কোথায় কোথায় টাকা যাচ্ছে এই সমস্ত ইউপিআই অ্যাড্রেস থেকে। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, এই ইউপিআই অ্যাড্রেসগুলি ডোনি বল’এর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের। অফিসাররা দেখেন, নতুন বছরের গোড়া থেকেই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে টাকা ঢুকছে কলকাতা ও হাওড়ার কিছু অ্যাকাউন্টে। 
তাহলে কি কলকাতা বা তার আশপাশে লুকিয়ে রয়েছে ডোনি বল গ্যাংয়ের শ্যুটাররা? এর উত্তর খুঁজতেই শহরে আসে পাঞ্জাব পুলিশের টিম। দেখা যায়, ৪ জানুয়ারি যে ইউপিআই অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা ঢুকেছে, সেটি পার্ক স্ট্রিট থানার মার্কুইজ স্ট্রিটের একটি গেস্ট হাউসের রিসেপসনিস্টের। সেই সূত্রেই ওই গেস্ট হাউসে গিয়ে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তিন বোর্ডার জানিয়েছিল, সঙ্গে নগদ টাকা বা কোনও ইউপিআই অ্যাকাউন্ট নেই। পাঞ্জাব থেকে একজন টাকা পাঠাবে। রিসেপশনিস্টের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করার অনুমতি চায় বোর্ডাররা। অনুমতি মেলার পর ডোনা বল গ্যাংয়ের সদস্যদের জন্য পাঞ্জাব থেকে প্রথমে ১০ হাজার টাকা আসে। তা দিয়ে গেস্ট হাউসের বিল মেটানো হয়। শ্যুটাররা হাওড়ায় আসার পর কৌশল বদলে ফলওয়ালা ও সবজিওয়ালার সঙ্গে আলাপ জমিয়ে জেনে নেয়, ইউপিআই অ্যাকাউন্টের হদিশ। এরপর তাদের মোবাইল ব্যবহার করে পাঞ্জাবে কথা বলে। সেইমতো সবজি বা ফল বিক্রেতার অ্যাকাউন্টে টাকা আসার পর তা হস্তান্তর করা হয় ওই তিনজনকে।  ধৃত ৩ অভিযুক্ত। -নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ