


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘আমি সমীর মণ্ডল। আমাদের মাওবাদী তহবিলের জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। তাই আপনি ৫০ লক্ষ টাকা দান করবেন। টাকা না পৌঁছলে আমরা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব। পুলিসের কাছে গেলেও পার পাবেন না।’— এই বয়ানেই হুমকি চিঠি এসে পৌঁছছে বড়বাজারের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছে। কে দিল এই হুমকি চিঠি? কেনই বা টাকা চেয়ে হুমকি দেওয়া হল? আদৌ কি প্রেরকের নেপথ্যে মাওবাদী সংগঠন নাকি কোনও ব্যবসায়িক শত্রুতার জেরে ভয় দেখানোর জন্য এই হুমকি? গোটা বিষয়টি তদন্ত করছে বড়বাজার থানার পুলিস।
বড়বাজারে একটি বড় স্বর্ণ বিপণির মালিক জয়ন্ত চৌধুরী। তিনি পুলিসকে জানিয়েছেন, গত ৩০ মে তাঁর কাছে আসে এই হুমকি চিঠি। তাতে লেখা রয়েছে, গুপীকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে মুকুল নামে এক ব্যক্তির কাছে টাকা পৌঁছে দিতে হবে। কে তিনি? আদৌ কি সেই নামের কোনও অস্তিত্ব রয়েছে? জয়ন্ত পুলিসকে জানিয়েছেন, এই নামে কাউকে চেনেন না তিনি। ব্যবসায়িক শত্রুতা নিয়ে বিশেষ কিছু খোলসা করে জানাননি ব্যবসায়ী। সেকারণে তাঁর ব্যবসায়িক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত ব্যক্তির নাম, ফোন নম্বর চেয়েছেন তদন্তকারীরা। অভিযোগকারীর কল ডিটেলস রেকর্ড ঘেঁটে দু’জনকে চিহ্নিত করেছে পুলিস। তাঁদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডাকা হতে পারে বলে লালবাজার সূত্রের খবর।
পুলিস সূত্রে খবর, বনগাঁ এলাকার এক কাঁচামাল সরবরাহকারীর থেকে সোনার বিস্কুট কেনে জয়ন্ত। তার কাছে বেশ কিছু টাকা দেনা রয়েছে বড়বাজারের ব্যবসায়ীর। তাহলে কি এই হুমকি বার্তার নেপথ্যে সেই কাঁচামাল সরবরাহকারী রয়েছে? খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী। পাশাপাশি, প্রাথমিক তদন্তে পুলিস আরও জেনেছে কয়েকমাস ধরেই আগ্নেয়াস্ত্র রাখার লাইসেন্সের জন্য আবেদন জানাচ্ছিলেন এই ব্যবসায়ী। কিন্তু, সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। ভুয়ো হুমকি চিঠি সাজিয়ে সেই লাইসেন্স পেতে চাইছেন কি ব্যবসায়ী? সেদিকটিও নজরে রেখেছে পুলিস।