


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: কতটা পথ পেরলে তবে পথিক বলা যায়! সে সব অনেক হিসেব। কিন্তু অভিযাত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছেন হুগলির শুভম চট্টোপাধ্যায়। তিনি ইতিমধ্যেই পা রেখেছেন আফ্রিকার কিলিমাঞ্জারো। ইউরোপের এলব্রুস ঘুরে ফেলেছেন। আর্জেন্তিনার ওজোস দেল সালাদো পর্বতের শিখরে উঠে পড়েছেন। চলতি সপ্তাহেই ছুঁয়ে এসেছেন মাউন্ট সিডলে। আন্টার্কটিকার উচ্চতম এবং কঠিন আগ্নেয় পর্বত হিসেবে চর্চিত মাউন্ট সিডলে। উত্তরপাড়ার বাসিন্দা শুভম। তিনি জানান, বিশ্বের ১১১ জন ওই পর্বত শিখরে পতাকা তুলেছেন। তার মধ্যে তিনজন ভারতীয়। তৃতীয় জন হলেন উত্তরপাড়ার ভেতো বাঙালি শুভম ওরফে রনি। মাত্র তিনবছরে চার-চারটি শৃঙ্গজয়। রনির বিজয়রথ তড়িৎ গতিতেই ছুটছে।
২০২৪ সালে বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেটি বিশ্বের সাতটি উঁচু শৃঙ্গ ও সাতটি আগ্নেয়পর্বত জয়ের লক্ষ্য স্থির করেছিলেন। তিনি একটি স্টার্টআপ সংস্থার মালিক। স্বপ্ন ছিল বিশ্বরেকর্ডের খাতায় নাম তোলার। পিছন ফিরে দেখেননি। জীবনের ছাব্বিশ বছরে ওঠা শুরু। এখন বয়স আঠাশ। ২০২৪ সালে দুই শৃঙ্গ জয় করে আবার ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে দুই শৃঙ্গ ছুঁয়ে ফেলা। মুখের কথা নয়। ভিনদেশে আছেন এখন। শনিবার ফোন ধরে বললেন, ‘লক্ষ্য এখনও অনেক দূর। আমি কিছুটা কাছে গিয়েছি। সবচেয়ে কম সময়ে এবং কম বয়সে ৭টি সর্বোচ্চ শিখর আর ৭ আগ্নেয় পর্বত ছুঁতে হবে।’ আবেগে থরথর করছিল স্বপ্নকে অবিরাম ছুঁয়ে থাকা এক স্বপ্নসন্ধানী তরুণের গলা। যাকে ক্লান্তি ছুঁয়ে যেতে পারে না। গালের মাংস উঠে যাওয়ার যন্ত্রণা রুখে দিতে পারে না। বাড়িতে থাকা বৃদ্ধ পিতা-মাতা’র ভবিষ্যতের কথা ভয় ধরায় না। যিনি নিজে শুধু দুঃসাহসের ডানায় ভর করেননি, মধ্যবিত্ত বাবা-মাকেও প্রাণবন্ত করে তুলেছেন। আর তা করেছেন শুধু দুঃসাহসের স্বপ্ন দেখিয়েই। তাই স্বপ্নসন্ধানীর বৃদ্ধ বাবা-মা চট্টোপাধ্যায় দম্পতি অবলীলায় বলে দিতে পারেন, ও নিজেও মিছে স্বপ্ন দেখেনি, আমাদেরও দেখায়নি। চারটে শৃঙ্গ তো করে ফেলল। চারটে শৃঙ্গই বা কম কি? উত্তরপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ যাদব বলেন, ভাবাই যায় না দুর্গম একের পর এক শৃঙ্গ উত্তরপাড়ার এক যুবক অবলীলায় জয় করে ফেলছেন।
মাউন্ট সিডলে কি? অ্যান্টার্কটিকার সবথেকে উঁচু সুপ্ত আগ্নেয়গিরি। পাহাড়ের দক্ষিণ দিকে ওই আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ বা ক্যালিডেরা আছে। এখন অবশ্য বরফাবৃত। বলা হয় অভিযাত্রীদের জন্য অন্যতম দুর্গম ওই শিখর। কারণ বিপুল নীল বরফের ঢালু পথ পার হতে হয়। ১৯৯০ সালে নিউজিল্যান্ডের বিল অ্যাটকিনস প্রথম ওই শিখরে আরোহণ করেছিলেন। তারপর আরও ১১০জন ওই শিখরে চড়েছেন। শেষতম হুগলির উত্তরপাড়ার শুভম।