নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দীর্ঘ স্থিতাবস্থার পর অবশেষে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষার অগ্রসর হওয়ার ব্যাপারে আশার কথা জানাল কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর। আগামী ১৪ জুন নাগাদ মধ্য ও সংলগ্ন পূর্ব ভারতের কিছু অংশে বর্ষা প্রবেশ করবে বলে মঙ্গলবার মৌসম ভবন জানিয়েছে। ওই সময়ে দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা ঢুকবে কি না সেটা অবশ্য এদিন বলা হয়নি। মঙ্গলবার ১০ জুন ছিল দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা প্রবেশের স্বাভাবিক দিন।
দেশের অনেক জায়গার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের বেশিরভাগ অংশে স্বাভাবিক সময়ের দিনসাতেক আগে, ২৯ মে বর্ষা প্রবেশ করেছিল। পুরো দক্ষিণ, উত্তর-পূর্ব ভারতের পাশাপাশি পশ্চিম, মধ্য ও পূর্ব ভারতের (ওড়িশার) কিছু অংশে বর্ষাকাল শুরু হয়েছে। মৌসুমি বায়ু দশদিনের বেশি একই জায়গায় থমকে থাকায় দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনও বর্ষা শুরু হয়নি। বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ-ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে এবার বর্ষা গতি পাবে বলে আশা করছেন আবহাওয়াবিদরা।
কয়েকদিন ধরে রাজ্যে বৃষ্টি কম হচ্ছিল। রাজ্যে বৃষ্টি এবার বাড়বে বলে আলিপুর আবহাওয়া অফিসের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন। দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হবে উত্তরবঙ্গে। আবহাওয়া দপ্তর হিমালয় সংলগ্ন উত্তরবঙ্গ ও সিকিম শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকাসহ দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জায়গায় মঙ্গলবার অল্প বৃষ্টি হওয়ায় গরম থেকে সামান্য স্বস্তি মিলেছে।
কয়েকটি ঘূর্ণাবর্ত ও নিম্নচাপ অক্ষরেখার প্রভাবে দেশের অনেক জায়গায় বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। উত্তর ওড়িশা ও লাগোয়া এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। এটির প্রভাব পড়ছে রাজ্যে। উত্তর-পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ থেকে পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর পযর্ন্ত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা অবস্থান করছে। বঙ্গোপসাগর থেকে বেশি পরিমাণ জলীয় বাষ্প ঢুকছে রাজ্যের বায়ুমণ্ডলে। জলীয় বাষ্প ঢুকতে শুরু করলে পাহাড় থাকার জন্য উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে বেশি বৃষ্টি হয় বলে আবহাওয়া অধিকর্তা জানিয়েছেন। আগামী কিছুদিনের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। ওই নিম্নচাপটি বর্ষাকে অনেকটা এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশা করছেন আবহাওয়াবিদরা।