নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘ইসরো’র বাঙালি বিজ্ঞানীদের উদ্যোগে এই প্রথম আয়োজিত হচ্ছে দুর্গাপুজো। আমেদাবাদের ইসরো এবং পিআরএল (ফিজিক্যাল রিসার্চ ল্যাবরেটরি)-এর মহাকাশ বিজ্ঞানীরা তাঁদের গবেষক সত্তা এবং সাংস্কৃতিক মননের মেলবন্ধন ঘটাতে তৈরি করেছেন বঙ্গীয় অন্তরীক্ষ সাংস্কৃতিক সমিতি। সেই সমিতির আয়োজনেই প্রথমবার ইসরোর বিজ্ঞানী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের উদ্যোগে ধুমধাম করে দুর্গাপুজো হতে চলেছে। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, বহু বছর ধরে ইসরোয় সরস্বতী পুজোর প্রচলন থাকলেও সময়াভাবে তাঁরা দুর্গাপুজোর মতো বড় আয়োজন করে উঠতে পারতেন না। কিন্তু এখন প্রযুক্তির হাত ধরে ব্যস্ততা সত্ত্বেও অনলাইনে পুজো প্রস্তুতির বৈঠক থেকে শুরু করে চাঁদা আদায়, স্পনসরশিপ জোগাড়ের মতো কাজগুলি সহজে হয়ে যায়। তাই এমন আয়োজন সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমিতির প্রেসিডেন্ট প্রান্তিক চক্রবর্তী। বিজ্ঞানীদের সারা বছরের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই থিম রূপায়িত হচ্ছে। প্রান্তিকবাবুর কথায়, ‘মহাকাশ হল ইসরোর বিজ্ঞানীদের কর্মক্ষেত্র। যে মহাকাশে তাঁদের হাতে তৈরি স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন, রিমোট সেন্সিং ও নেভিগেশনের পরিষেবা দিচ্ছে দেশকে, আবার চাঁদ, মঙ্গল, শুক্রেও পাড়ি দিচ্ছে, সেই কল্পিত স্বর্গলোক থেকেই দেবীর মর্ত্যে আগমন। তাই বিজ্ঞানীদের এই মহাকাশ-ধর্ম আর বাঙালির দুর্গাপুজোর ট্র্যাডিশনের মিশেলই আমাদের পুজোর থিম। যে ভাবনা রূপায়ণের দায়িত্বে রয়েছেন সমিতির সদস্য ইন্দ্রানী চৌধুরী, কৌশিক বসাক, সুমন আইচ, অতৃশ মুখোপাধ্যায়, গৌতম সামন্ত, ইন্দ্রনীল মিশ্র, অনন্য রায় ও অয়ন দাস।’ উদ্যোক্তাদের পক্ষে জানিয়েছে, ইসরোর বিক্রমনগর হাউসিং সোশাইটির কমিউনিটি হলে পুজোর আয়োজন হচ্ছে। ডাকের সাজের প্রতিমা গড়ছেন আমেদাবাদের মণিনগরের শিল্পীরা। ঢাকি ও পুরোহিত যাচ্ছেন বাংলা থেকে। পুজোর দিনগুলিতে ভোগের ব্যবস্থা, সন্ধ্যায় থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।



