ওয়াশিংটন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লাগাতার হুঁশিয়ারি। তার পরেই ইরানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলা। মৃত্যু হয়েছে সেদেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ে। এই হামলার সাফাই দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়, আগেভাগে এই আক্রমণ না করলে ইরানই প্রথমে মার্কিন ঘাঁটিগুলি নিশানা করত। যদিও গোয়েন্দাদের তরফে এমন কোনো তথ্য ছিল না বলে রবিবার মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের দুই কর্তা।
রবিবার মার্কিন কংগ্রেসের সেনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিটির সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেন পেন্টাগনের আধিকারিকরা। দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা ওই বৈঠকে ইরানে মার্কিন হামলা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডিলান জনসন একথা জানিয়েছেন।
ওই বৈঠকে পেন্টাগনের কর্তারা জানিয়েছেন, ইরানে হামলার একদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিষয়টি নিয়ে একপ্রস্থ আলোচনা করেন। ট্রাম্প তখন আরব দুনিয়ার মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে ইরানের হামলা হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ছদ্ম বাহিনীর মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়াজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে ইরান হামলা চালাতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এমনই খবর সূত্রের। যদিও তেহরান মার্কিন বাহিনীর উপর হামলা চালাবে, এমন কোনো গোয়েন্দা তথ্য পেন্টাগনের হাতে ছিল না। ট্রাম্প এব্যাপারে সাফ জানান, মার্কিন বাহিনীর উপর হামলা কবে হবে, সেজন্য তিনি অপেক্ষা করে থাকবেন না। ইরানের মতো দেশের হাতে কোনোভাবেই যাতে পারমাণবিক অস্ত্র না থাকে, তা আমেরিকা নিশ্চিত করবে বলেও জানান ট্রাম্প। তার একদিন পরেই, শনিবার তেহরান সহ ইরানের বিভিন্ন অংশে হামলা চালায় আমেরিকা-ইজরায়েল।
ইরানে হামলা ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করেছে ডেমোক্র্যাটরা। তারা জানিয়েছে, ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধ জারি রেখেছেন। এর আগে কোনো প্রমাণ ছাড়াই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছিলেন, খুব শীঘ্রই ইরান এমন ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরি করতে চলেছে, যা দিয়ে মার্কিন মুলুকে আঘাত হানা যাবে। যদিও এমন কোনো মিসাইল ইরানের হাতে আছে কি না, সেই বিষয়ে মার্কিন গোয়েন্দারা কোনো তথ্য দেননি। তার পরেই এই যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ডেমোক্র্যাটরা। এর মধ্যেই মার্কিন জনতার মধ্যে যুদ্ধ নিয়ে একটি সমীক্ষা চালিয়েছে রয়টার্স ও ইপসস। তাতে দেখা যাচ্ছে, মাত্র ২৭ শতাংশ আমেরিকান এই যুদ্ধের পক্ষে। অন্যদিকে ৪৩ শতাংশ যুদ্ধের বিপক্ষে রায় দিয়েছেন। কোনো মতামত জানাননি ২৯ শতাংশ মানুষ।