Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সীমা থাকা উচিত, হাইকোর্টের ধমক ‘দাগি’দের, এসএসসির পরীক্ষায় বসার দাবিতে অযোগ্যদের মামলা পত্রপাঠ খারিজ

‘সব কিছুর সীমা থাকা উচিত। যথেষ্ট হয়েছে আর নয়!’ এই ভাষাতেই স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) চিহ্নিত ‘দাগি’দের তুলোধোনা করল কলকাতা হাইকোর্ট।

সীমা থাকা উচিত, হাইকোর্টের ধমক ‘দাগি’দের, এসএসসির পরীক্ষায় বসার দাবিতে অযোগ্যদের মামলা পত্রপাঠ খারিজ
  • ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৩:০৯
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘সব কিছুর সীমা থাকা উচিত। যথেষ্ট হয়েছে আর নয়!’ এই ভাষাতেই স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) চিহ্নিত ‘দাগি’দের তুলোধোনা করল কলকাতা হাইকোর্ট। ‘অযোগ্য’ তালিকা প্রকাশের পর চিহ্নিতদের একাংশ দ্বারস্থ হয়েছিলেন আদালতের। এসএসসির ‘অযোগ্য’ তালিকা বহাল রাখার পাশাপাশি তাঁদের মামলা পত্রপাঠ খারিজ করে দিলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। 
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো গত সপ্তাহেই ‘দাগি’দের তালিকা প্রকাশ করেছে এসএসসি। ওই তালিকায় ১৮০৬ জনের নাম রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে, আগামী ৭ এবং ১৪ সেপ্টেম্বর এসএসসির যে নিয়োগ পরীক্ষা রয়েছে, তাতে বসতে পারবেন না ‘অযোগ্য’রা। তালিকা প্রকাশের পরই পরীক্ষার বসতে চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল চিহ্নিত অয্যোগ্যদের একাংশ। এদিন সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি ভট্টাচার্যর পর্যবেক্ষণ, এসএসসির প্রকাশিত তালিকায় হস্তক্ষেপ করার জন্য এটি উপযুক্ত মামলা নয়। পরীক্ষায় বসতে পারবেন না মামলাকারী ‘দাগি’রা।
এদিন মামলার শুনানিতে বিচারপতি ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, ‘গত ১৭ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে আপনারা স্কুলে যেতে পারেননি। এখন কেন আবেদন করেছেন?’ ‘দাগি অযোগ্য’দের তরফে আইনজীবী অনিন্দ্য লাহিড়ী এবং আইনজীবী শাক্য সেন সওয়ালে বলেন, ‘শীর্ষ আদালত দাগি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার শর্ত প্রয়োগ করেছে। মূলত সাদা খাতা জমা, প্যানেল বহির্ভূতভাবে নিয়োগ এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ প্যানেল থেকে চাকরি পেলেই অযোগ্য হিসেবে গণ্য করা যাবে। মামলাকারীদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়।’ তাঁরা আরও বলেন, ‘শীর্ষ আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছিল, ওএমআর সঠিক ছিল না। তা নষ্ট করা হয়েছে। তাহলে একমাত্র সাদা ওএমআর শিট ছাড়া অন্য কিছুর ভিত্তিতে অযোগ্য বলে চিহ্নিত করা যায় না। মামলাকারীদের পরীক্ষায় বসতে দেওয়া উচিত।’ 
এসএসসির তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা বলেন, ‘মামলাকারীরা সকলেই ‘দাগি’ হিসেবে চিহ্নিত। এ নিয়ে তর্ক করে লাভ নেই। এই সব প্রার্থীর বিরুদ্ধে ওএমআর শিট কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। সিবিআই যে তালিকা উদ্ধার করেছিল, তার সঙ্গে এসএসসি মিলিয়ে দেখেছে। এই প্রার্থীরা ওএমআর শিট কারচুপি ও র‍্যাঙ্ক জাম্প করে চাকরি পেয়েছেন।’ 
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর মামলাকারীদের উদ্দেশ করে ফের বিচারপতি ভট্টাচার্য বলেন, ‘এতদিন কোথায় ছিলেন? যেই তালিকা প্রকাশ হল, আদালতে চলে এলেন! আপনাদের গত ৩১ ডিসেম্বরের পর যখন কাজ করতে বারণ করা হল, তখন কি ঘুমোচ্ছিলেন? কেন এসএসসির কাছে গিয়ে বলেননি? শীর্ষ আদালতে যাননি কেন? লিস্ট বেরনো পর্যন্ত অপেক্ষা করলেন কেন?’ 
উত্তরে ‘দাগি অযোগ্য’দের আইনজীবীরা পাল্টা প্রশ্ন তুলে দাবি করেন, তাঁর মক্কেলদের কেন ‘অযোগ্য’ হিসেবে গণ্য করা হল? ‘যোগ্য’ ও ‘অযোগ্য’দের তালিকা কোথায়? সব তালিকা কেন প্রকাশ হল না? যদি ‘অযোগ্য’ বলা হয়, তবে কেন পরীক্ষা দেওয়ার জন্য অ্যাডমিট কার্ড দেওয়া হয়েছিল? মামলকারীদের আইনজীবীরা বলেন, ‘অ্যাডমিট কার্ড দিয়েও কেন বাতিল করা হল? ওই সিদ্ধান্তকেও আমরা চ্যালেঞ্জ করছি।’ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘সিবিআই বলছে ওএমআর শিট কারচুপি করা হয়েছে। তারা আমাদের দিয়েছে, আমরা গ্রহণ করেছি। সেই হিসেবে তারা অযোগ্য।’ সব শোনার পর মামলাটি খারিজ করে দেন বিচারপতি ভট্টাচার্য। 

Advertisement

ওএমআরের কার্বন কপি পাবেন প্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্বচ্ছতা রাখতে এবার শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ওএমআর শিটের কার্বন কপি প্রার্থীদের নিয়ে যেতে দেবে স্কুল সার্ভিস কমিশন। এতে স্বচ্ছতা রক্ষার পাশাপাশি নিজেদের পারফরম্যান্স সম্পর্কে কিছুটা আগাম আঁচও করতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা। এ বছরের পরীক্ষার ওএমআর শিটগুলি দু’বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করবে এসএসসি। যাতে কোনও মামলা হলে সেগুলিকে সামনে আনা যায়। প্রসঙ্গত, এই স্ক্যান করা কপি থেকেই যোগ্য-অযোগ্য বাছাই করা সম্ভব হয়েছিল।

সম্পর্কিত সংবাদ