নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সরকার এবং বিজেপির অন্দরে গুঞ্জন, জল্পনা, চর্চা তুঙ্গে। আজ কালের মধ্যে কি নতুন কোনও সিদ্ধান্ত? কারণ, মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দিনভর অকস্মাৎ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় ও শীর্ষ স্তরের অতি সক্রিয়তা এবং একের পর এক তৎপরতা। মঙ্গলবার রাত ৮টায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হঠাৎ পৌঁছে যান রাষ্ট্রপতি ভবনে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মূর্মূর সঙ্গে আধ ঘন্টার বেশি বৈঠক হয় তাঁর। যদিও কী বিষয়ে এই সাক্ষাৎ. তা জানা যায়নি। এমনকী সরকারিভাবেও কিছু জানানোও হয়নি। একমাত্র রাষ্ট্রপতি ভবনের পক্ষ থেকে সাক্ষাৎ ও বৈঠকের পর ছবি প্রকাশ করা হয় এবং বিবৃতি জারি হয়। কিন্তু ঘটনাচক্রে ঠিক তারপরই সরকারের শীর্ষ স্তরের তিন মন্ত্রী এবং বিজেপি নেতার মধ্যে বৈঠক হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং পৌঁছে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডার বাসভবনে। তাঁরা বেরিয়ে আসেন ১০ টার পর।
এখানেই শেষ নয়। মঙ্গলবার এবং বুধবার নাড্ডার সঙ্গে দেখা করেন সরকারের মন্ত্রীরা। কিছু মন্ত্রীর সঙ্গে ফোনেও কথা হয় তাঁর। এই তৎপরতার কারণ কী? এই নিয়েই জোরদার চর্চা সবথেকে বেশি শুরু হয় দল ও সরকারের অন্দরে। যদিও বুধবার পর্যন্ত কেউ মুখ খোলেননি।
প্রধানত দুটি চর্চা ও জল্পনা নিয়েই চলছে চাঞ্চল্য। দলের সভাপতির নাম সম্ভবত যে কোনও মুহূর্তেই ঘোষণা করা হবে। আর দ্বিতীয় জল্পনা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদল। প্রথম জল্পনার পিছনে যুক্তি কম। কারণ সভাপতি মনোনয়ন বিজেপির দলীয় প্রক্রিয়া। সেখানে সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে নাড্ডার বৈঠকের প্রশ্ন ও প্রয়োজন কোনওটাই নেই। সুতরাং তাহলে কি মন্ত্রিসভার রদবদলের কোনও সম্ভাবনা আছে? যদিও বিজেপি ও সরকারের সূত্রে এই গোটা ঘটনাপরম্পরায় কোনও অস্বাভাবিকতা নেই বলে দাবি করা হয়েছে। দলীয় সূত্রের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরলে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেন। বিদেশ সফরের বিষয়বস্তু জানাতে হয় রাষ্ট্রপতিকে। এটা প্রোটোকল। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, মোদি থাইল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কা সফর শেষ করে ফিরেছেন ৬ এপ্রিল। ১০ দিন কেটে গিয়েছে। সাধারণত বিদেশ সফর সেরে কয়েকদিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী রিপোর্ট করেন রাষ্ট্রপতিকে। দ্বিতীয় প্রশ্ন ঠিক একই সময়ে নাড্ডার বাসভবনে কেন দুই সর্বোচ্চ নেতা মন্ত্রী? এবং কেনই বা মন্ত্রীদের সঙ্গে নাড্ডার আলোচনা? বুধবার রাত পর্যন্ত ধোঁয়াশা রয়েই গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই চর্চাও কমছে না।