শ্রীভগবান উদ্ধবকে বলছেন, আমাদের পূর্বপুরুষ যদুরাজা ছিলেন পরম ধার্মিক। এক অবধূতের কাছে তিনি যে শিক্ষা পেয়েছিলেন তা তোমাকে বলছি।
শ্রীভগবান উদ্ধবকে বলছেন, আমাদের পূর্বপুরুষ যদুরাজা ছিলেন পরম ধার্মিক। এক অবধূতের কাছে তিনি যে শিক্ষা পেয়েছিলেন তা তোমাকে বলছি।
এক তরুণ অবধূত মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াতেন। তাঁকে দেখে যদুরাজা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি খুব আনন্দে আছেন। অথচ আপনার কাজকর্ম বা আয়-উপার্জন নেই। কামনা বাসনায় আপনি চঞ্চল নন। এ আনন্দের কারণ কি? এই বুদ্ধিই বা আপনি কোথা থেকে পেলেন?
অবধূত উত্তরে বললেন, ঠিক বলেছেন রাজা! আমি খুব আনন্দে আছি। আমি অনেক কিছু শিক্ষা করেছি; আমার গুরু একজন নয়; চব্বিশ জন। তাদের কাছ থেকে কি কি শিখেছি তা একে একে বলছি।
১) আমার প্রথম গুরু এই পৃথিবী: পৃথিবীর উপর আমরা কত উৎপাত করি। কিন্তু পৃথিবীর সব অবস্থায় অবিচল; তার নিকট শিখেছি, আপন ব্রতে স্থির থাকতে হবে। পৃথিবীর পর্বত ও গাছপালা থেকেও অনেক জিনিষ শেখার আছে। পাহাড় কেটে লোকে পাথর সংগ্রহ করে, ঘরবাড়ী ও রাস্তা তৈরীর জন্য। গাছ মানুষকে ফুল-ফল দেয়, ছায়া দেয়—কত উপকার করে। তাকেও মানুষ নিজের প্রয়োজনে কেটে ফেলে। কিন্তু তাতে পাহাড় বা গাছগুলির কোন আপত্তি নেই। তাদের নিকট শিখলাম, পরের উপকারের জন্যই আমাদের জীবনধারণ।
২) বায়ু: বায়ু নিজে লিপ্ত না হয়ে গন্ধ বহন করে। তার নিকট শিখেছি সংসারে থেকেও অনাসক্ত থাকতে হবে।
৩) আকাশ: আকাশ ঘরের মধ্যেও থাকে আবার বাইরেও থাকে। একদিকে সে সান্ত অন্যদিকে অনন্ত। সসীম দেহের মধ্যে থাকলেও আত্মা অসীম ও অনন্ত।
৪) জল: জল মলিন বস্তুকে শুদ্ধ করে এবং নিজে থাকে নির্মল ও স্নিগ্ধ। জলের কাছে শিখেছি, নিজে পবিত্র ও শান্ত থেকে জগতের মালিন্য দূর করতে হবে।
৫) আগুন: আমরা জানি বা না জানি, কাঠের মধ্যে আগুন আছে। কিন্তু তাকে দেখা যায় না। দেখা যায় তখন, যখন কাঠ জ্বলে ওঠে। সে সকল কলুষ পুড়িয়ে ফেলে, নিজে কলুষিত হয় না। আবার অগ্নির উৎপত্তি বা লয় নেই; উৎপত্তি বা বিনাশ আমরা দেখি অগ্নি শিখার।
আগুনের মত শ্রীভগবান গুপ্তভাবে সর্বত্র বিরাজিত; তপস্যার দ্বারা তাঁকে জানতে হয়।
৬) চন্দ্র: চন্দ্রকলার হ্রাস বৃদ্ধি হয়। চন্দ্রের নয়। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আমাদের যে সকল পরিবর্তন হয় তা দেহের; আত্মার নয়।
স্বামী অমলানন্দের ‘ভাগবতের কথা ও গল্প’ থেকে