Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

তেহরানে ক্ষমতা বদলাতে গিয়ে বেসামাল খোদ ট্রাম্পের প্রশাসন, যুদ্ধের মধ্যেই এবার ছাঁটাই সেনাপ্রধান

ইরানের ‘সন্ত্রাসী শাসন ব্যবস্থা’য় বদল আনা এই যুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য। একাধিকবার সেকথা বলতে শোনা গিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে।

তেহরানে ক্ষমতা বদলাতে গিয়ে বেসামাল খোদ ট্রাম্পের প্রশাসন, যুদ্ধের মধ্যেই এবার ছাঁটাই সেনাপ্রধান
  • ৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ওয়াশিংটন: ইরানের ‘সন্ত্রাসী শাসন ব্যবস্থা’য় বদল আনা এই যুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য। একাধিকবার সেকথা বলতে শোনা গিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। কিন্তু দশচক্রে ভগবান ভূত! ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় জেরবার আমেরিকা। তেহরানকে ‘সবক’ শেখাতে গিয়ে উলটে বদলের ধুম পড়ে গিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্দরেই। আর যুদ্ধের মধ্যে এই ছাঁটাই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন স্বয়ং মার্কিন সেনাপ্রধান জেনারেল র‌্যান্ডি জর্জ। আমেরিকার সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের সঙ্গে মতান্তরের জেরে চাকরি গিয়েছে তাঁর। প্রবীণ সামরিক অফিসারদের পদন্নোতি ও সেনাবাহিনীতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের রাশ নিয়েই দু’জনের মধ্যে যাবতীয় দ্বন্দ্ব বলে খবর। তার জেরেই সেনাপ্রধান জর্জকে অবসরগ্রহণ করতে বলা হয়েছে। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে আরও দুই রাঘববোয়ালকে। প্রথমজন হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সচিব ক্রিস্টি নোয়েম, দ্বিতীয়জন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল মার্কিন সেনাপ্রধানের নামও। শুধু তাই নয়, যুদ্ধের ধাক্কায় বেসামাল ট্রাম্প আরও একাধিক শীর্ষ আধিকারিকের ভূমিকায় বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছেন বলে খবর। সেই তালিকায় রয়েছে তাবড় তাবড় সব নাম! তাঁরা হলেন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক, শ্রমসচিব লোরি শাভেজ-ডিরেমার, এফবিআই ডিরেক্টর কাশ প্যাটেল, ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের ডিরেক্টর তুলসী গাবার্ড, এমনকি প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিটও। ইরানে পালাবদল করতে গিয়ে ওয়াশিংটনে ক্ষমতার সর্বোচ্চ স্তরে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে বলেই খবর।

Advertisement

যুদ্ধ চলার মধ্যেই মার্কিন সেনাপ্রধানকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় শোরগোল তুঙ্গে। র‌্যান্ডি জর্জকে কেন সেনাপ্রধানের পদ থেকে সরানো হল, পেন্টাগন তা নিয়ে নীরব। তবে বিভিন্ন সূত্র উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদ মাধ্যমগুলির দাবি, প্রতিরক্ষা সচিব হেগসেথের সঙ্গে সংঘাতই মূল কারণ। হেগসেথ চেয়েছিলেন জর্জ সম্পূর্ণভাবে তাঁর ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অঙ্গুলিহেলনে চলবেন। কিন্তু সেনাবাহিনীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের রাশ সম্পূর্ণভাবে অসামরিক প্রশাসনিক কর্তাদের হাতে ছাড়তে রাজি ছিলেন না জর্জ। প্রতিরক্ষা সচিবের কথামতো প্রবীণ সামরিক আধিকারিকদের পদোন্নতি ঠেকাতেও আপত্তি করেন সেনাপ্রধান। সেই দ্বন্দ্বের জেরেই শেষ পর্যন্ত চাকরি গিয়েছে সেনাপ্রধানের। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সেনাপ্রধানের চাকরি গেলেও ইরান যুদ্ধের দায় কিন্তু প্রতিরক্ষা সচিব হেগসেথের ঘাড়েই চাপানোর চেষ্টা করেছিলেন ট্রাম্প। নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্টে আবার দাবি করা হয়েছে, সেনাপ্রধান জর্জের পাশাপাশি মার্কিন সেনাসচিব ড্যানিয়েল পি ড্রিসকোলের সঙ্গেও বিভিন্ন বিষয়ে মতান্তর তৈরি হয় প্রতিরক্ষা সচিব হেগসেথের। যদিও গত এক বছর ধরে জর্জ ও ড্রিসকোল ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে সেনাবাহিনীর যাবতীয় কাজ পরিচালিনা করতে থাকেন। তাঁদের এই ঘনিষ্ঠতাই হেগসেথের সঙ্গে সংঘাত আরও বাড়িয়ে দেয়। হেগসেথের কথামতো চার প্রবীণ সেনা অফিসারের পদোন্নতি ঠেকাতে রাজি হননি জর্জ ও ড্রিসকোল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ