Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রতিমার কাঠামো তৈরি হয় গরান কাঠ দিয়ে, ষষ্ঠীতে মায়ের চক্ষুদান, ভাঙড়ের ৩০০ বছরের সরকার বাড়ির পুজো

৩০০ বছরের বেশি সময় ধরে রীতি মেনে চলে আসছে বোদরার নাওরা সরকার বাড়ির দুর্গা আরাধনা। এটি ভাঙড়ের অন্যতম প্রাচীন পুজো।

প্রতিমার কাঠামো তৈরি হয় গরান  কাঠ দিয়ে, ষষ্ঠীতে মায়ের চক্ষুদান, ভাঙড়ের ৩০০ বছরের সরকার বাড়ির পুজো
  • ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ৩০০ বছরের বেশি সময় ধরে রীতি মেনে চলে আসছে বোদরার নাওরা সরকার বাড়ির দুর্গা আরাধনা। এটি ভাঙড়ের অন্যতম প্রাচীন পুজো। এর বৈশিষ্ট্য হল, প্রতিমার কাঠামো তৈরি করতে ব্যবহার করা হয় সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ গরান গাছের কাঠ। ওই কাঠ ছাড়া কাঠামো তৈরিই হবে না। সুন্দরবনের কৃষকদের থেকে ওইসব কাঠ সংগ্রহ করা হয়। কীভাবে শুরু হল এই পুজো? বাড়ির প্রবীণ সদস্য বরেন সরকার বলেন, জ্যাঠামশাইয়ের কাছে গল্প শুনেছিলাম যে, তাঁদের পূর্বপুরুষ বিহারীলাল সরকার ডিস্ট্রিক্ট জজ থাকাকালীন স্বপ্নে মা দুর্গাকে বিদ্যাধরী নদীতে দেখেছিলেন। তাঁকে বরণ করে পুজো করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মা। তারপর থেকেই এই সরকার বাড়িতে দুর্গাপুজোর চল শুরু হয়। দেখতে দেখতে দেবী আরাধনার বয়স ৩০০ বছর পেরিয়ে গিয়েছে। একটা সময় ভাঙড় সুন্দরবনের মধ্যেই পড়ত। চারদিকে ছিল জঙ্গল। বিদ্যাধরী নদী বয়ে যেত এখান দিয়েই। এখন সেসব কিছুই নেই। জঙ্গল সাফ করে গ্রামের পর গ্রামে মানুষ থাকছে মানুষ। নদীর অভিমুখ চলে গিয়েছে অন্যত্র। এই বাড়িতে ষষ্ঠীর দিন কলস স্থাপন করা হয়। মহালয়ার দিন বেশিরভাগ জায়গাতেই দুর্গার চোখ আঁকা হয়। কিন্তু এখানে ষষ্ঠীতে দেবীর চক্ষুদান হয়। অষ্টমীর দিন ঠাকুরের পাশাপাশি পাড়ার নারায়ণী মন্দিরেও পুজো দেওয়া হয়। একেবারে ঢাক পিটিয়ে সবাই যান সেখানে। দশমীর দিনে প্রতিমার সামনে কালো কচু, আতপ চাল ও নারকেল বাটা দেওয়া হয়। পরে সেসব প্রসাদের সঙ্গে বিতরণ করেন বাড়ির সদস্যরা।পরিবারের আরেক সদস্য মৈনাক সরকারের কথায়, জন্মাষ্টমীর পরের দিন নন্দ উৎসবে কাঠামো পুজো হয়। তারপরই মৃৎশিল্পী এসে ঠাকুর তৈরির কাজ শুরু করেন। পুরনো কাঠামোকেই ঠিকঠাক করে ব্যবহার করা হয়। তাতে ওই গরান গাছের কাঠ ব্যবহার করা আবশ্যিক। চালকুমড়ো, আখ বলি দেওয়া হয়। পুজোর দিনগুলিতে নিরামিষ খাবার হলেও দশমীর দিন আমিষ রান্না করা হয়। বিসর্জনের দিন নিয়ম মেনে বাঁশের দোলায় কাঁধে চাপিয়ে মাকে নিয়ে যান গ্রামবাসীরা। স্থানীয় পুকুরেই হয় বিসর্জন।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ