


রাজু চক্রবর্তী, কলকাতা: গত শতাব্দীর চারের দশক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। সেই সময় যুদ্ধবিমান ওঠা-নামার জন্য প্রত্যন্ত পুরুলিয়ার ছররায় ব্রিটিশরা গড়ে তুলেছিল বিমান ঘাঁটি। যুদ্ধ থেমে যেতেই সেই বিমান ঘাঁটি বন্ধ হয়ে যায়। তার প্রায় ৮০ বছর পর সেই ছররাতেই মাথা তুলতে চলেছে সাজানো-গোছানো বিমানবন্দর। যাবতীয় পরিকল্পনা যথা সময়ে বাস্তবায়িত হলে কয়েক বছরের মধ্যেই অযোধ্যা পাহাড় আর শাল-মহুয়ার জঙ্গলে ঘেরা পুরুলিয়ার সঙ্গে আকাশপথে যুক্ত হবে দেশের বাকি অংশ। শুরু হবে বিমানে যাত্রী পরিষেবা। ইতিমধ্যে অন্ডাল এবং কোচবিহারে এমন ছোট বিমানবন্দর চালু রয়েছে। বালুরঘাটে বিমানবন্দর তৈরির কাজ শেষের পথে। আর মালদহে পরিষেবা শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো প্রস্তুত হয়ে থাকলেও কেন্দ্র অনুমতি দিচ্ছে না বলে অভিযোগ। এছাড়া রয়েছে কলকাতা ও বাগডোগরা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সেই হিসেবে ছররা হতে চলেছে রাজ্যের সপ্তম বাণিজ্যিক বিমানবন্দর।
রিজিওনাল কানেকটিভিটি স্কিম (আরসিএস)-এর অধীনে দেশের প্রত্যন্ত এলাকার সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ গড়ে তোলার বিশেষ উদ্যোগ নেয় কেন্দ্র। সেই স্কিমের আওতায় ‘উড়ান’ প্রকল্পে এই বিমানবন্দরগুলি তৈরি হয়েছে বা নির্মাণকাজ চলছে। রাজ্যে আরও একটি ছোট বিমানবন্দর তৈরির জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ছররাকে বেছে নিয়েছে। কারণ, এর সঙ্গে জুড়ে আছে সুবিশাল জঙ্গলমহলের আম জনতার আর্থিক উন্নতির বিষয়টি। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে এয়ারপোর্ট অথারিটি অব ইন্ডিয়া ছররায় বিমানবন্দর গড়ে তোলার জন্য প্রি-ফিজিবিলিটি স্টাডি করে। রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী বলেন, ‘ছররাতে বিমানবন্দর তৈরির জন্য রাইটসকে দিয়ে ইতিমধ্যেই আমরা বিশেষ সমীক্ষা করিয়েছি। সেই রিপোর্টে প্রস্তাবিত বিমানবন্দর নিয়ে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। পরিকাঠামো নির্মাণ সহ যাবতীয় পরিকল্পনা রূপায়িত করতে আনুমানিক খরচ নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পূর্তদপ্তরকে। সেই রিপোর্ট এলেই আমরা বিমানবন্দর তৈরির জন্য লাইসেন্স পেতে আবেদন জানাব। তারপর ‘এয়ারপোর্ট অথারিটি অব ইন্ডিয়া’র প্রতিনিধি দল পরিদর্শন করবে। আশা করি, দ্রুততার সঙ্গে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।’ সেই সঙ্গে এখনও মালদহ বিমানবন্দর চালু না হওয়া নিয়ে কেন্দ্রের অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রককে কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘সব কাজ শেষ করে পরিষেবা শুরুর জন্য ৬ মাস আগে কেন্দ্রের অনুমোদন চেয়েছি আমরা। কিন্তু আজও কোনও সাড়া নেই। আসলে এক্ষেত্রেও বাংলাকে বঞ্চনার মানসিকতা ছাড়তে পারছে না কেন্দ্র।’
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২১ অক্টোবর কেন্দ্রীয় সরকার ‘উড়ান’ প্রকল্প চালু করে। দেশের প্রত্যন্ত বা দূরবর্তী এলাকায় বিমানবন্দর তৈরিতে উৎসাহ দেওয়া হয় এই প্রকল্পে। এই ধরনের বিমানবন্দরে এয়ারবাস বা পুরোদস্তুর বড় বিমান ওঠা-নামা করতে না পারলেও কম আসনের বিমান স্বচ্ছন্দে যাতায়াত করতে পারে। সেই সূত্রেই জঙ্গলমহলের ছররাকে বেছে নেয় রাজ্য সরকার। এর মাধ্যমে কার্যত পুনরুজ্জীবন পাবে ১৯৪২ সালে তৈরি হওয়া অধুনা পরিত্যক্ত এই এয়ারফিল্ড।