


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃহস্পতিবার বিধানসভায় পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন বাজেট বরাদ্দ নিয়ে আলোচনায় দপ্তরের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনার বিষয়টি তুলে ধরেন। ১০০ দিনের কাজ, আবাস প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আটকে রেখে বাংলাকে ভাতে মারার চেষ্টা হচ্ছে বলেও তিনি জানান। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক পদক্ষেপ কেন্দ্রের এই চেষ্টা ব্যর্থ করেছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। উল্লেখ, কেন্দ্র টাকা না দেওয়ায় ১০০ দিনের কাজের বকেয়া টাকা মিটিয়ে দিয়েছে রাজ্য। চালু করেছে ‘কর্মশ্রী’ প্রকল্পও। তার মাধ্যমে আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৩৩ কোটি শ্রমদিবস সৃষ্টি হবে বলেও রাজ্যের বাজেটে ধরা হয়েছে। চলতি অর্থবর্ষে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩০ কোটি ৫৬ লক্ষ শ্রমদিবস সৃষ্টি হয়েছে। গড়ে ৫৬ দিন করে কাজ পেয়েছেন জবকার্ড হোল্ডাররা। মজুরি দেওয়া হয়েছে ৫,৫৮৮ কোটি টাকার।
আবার কেন্দ্র আবাস প্রকল্পের টাকা না দেওয়ায়, আগামী অর্থবর্ষে বাংলার বাড়ি (গ্রামীণ) প্রকল্পে ১৫ হাজার ৪৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যেও একাধিক পদক্ষেপ দেওয়ার কথা বাজেটে বলা হয়েছে।
দেশের মধ্যে সর্বাধিক ১২ লক্ষ ১ হাজার স্বনির্ভর গোষ্ঠী রয়েছে রাজ্যে। সেগুলির সদস্য প্রায় ১ কোটি ২১ লক্ষ মহিলা। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির মাধ্যমে রাজ্যের মহিলাদের কাজের সুযোগ করে দিচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। চাঙ্গা হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতিও। ফলে আগামী অর্থবর্ষে রাজ্যের স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে আর্থিকভাবে আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। তাই আগামী অর্থবর্ষে প্রত্যেক গোষ্ঠীকে গড়ে অন্তত ৩ লক্ষ টাকা করে ঋণ সুনিশ্চিত করবে রাজ্য।
আনন্দধারা প্রকল্পের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত ১০ লক্ষ ৯৩ হাজার ৭৩৬টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে ১ লক্ষ ১৭ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকার ঋণ সুনিশ্চিত করা হয়েছে। গত অর্থবর্ষে গড়ে এক একটি গোষ্ঠী ২ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা করে ঋণ পেয়েছে। এই অঙ্ক আগামী অর্থবর্ষে অনেকটাই বাড়বে বলেও জানিয়েছেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী।