নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেন্দ্রের কাছে বাংলার বকেয়া ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই পরিস্থিতিতে প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় ত্রাণ তহবিল গড়ছে নবান্ন। এই তহবিলে যেকোনও ব্যক্তি নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ সাহায্য করতে পারবেন। তবে এই তহবিল শুধুমাত্র উত্তরবঙ্গের বিপর্যয়ের কথা মাথায় রেখে করা হচ্ছে এমনটা নয় বলেই সূত্রের খবর। প্রশাসনিক মহলের ব্যাখ্যা, এই তহবিলে জমা পড়া টাকা রাজ্যের যেকোনও প্রান্তের বিপর্যয় মোকাবিলার কাজে ব্যবহৃত হবে।
উত্তরবঙ্গের বিপর্যয়ের ফলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠেও উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কথা। উত্তরবঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছাড়িয়েছে হাজার কোটি টাকা। কিন্তু, রাজ্যকে একটি টাকা দিয়েও সাহায্য করেনি মোদি সরকার। তবে শুধু উত্তরবঙ্গই নয়, বারেবারে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়েছে দক্ষিণবঙ্গও।
এর আগে কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ ত্রাণ তহবিল গড়া হয়েছিল রাজ্যের তরফে। রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরের ওয়েবসাইট ও প্রচার মাধ্যমে সেই তহবিলের খুঁটিনাটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল রাজ্য। এবারও একইভাবে মানুষকে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জন্য তৈরি ত্রাণ তহবিলের বিষয়টি জানানো হবে। প্রসঙ্গত, কোভিডকালে গঠিত ত্রাণ তহবিলে কেউ অর্থ সাহায্য করলে আয়করে ছাড় পেতেন। এক্ষেত্রেও সেই সুবিধা থাকতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এই ত্রাণ তহবিলের যাবতীয় কাজ করছে পশ্চিমবঙ্গ বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর। যা নিয়ে সোমবার বিকেলে নবান্নে ধরা পড়েছে চূড়ান্ত ব্যস্ততার ছবি। শীঘ্রই এই ত্রাণ তহবিলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর থেকে শুরু করে অন্যান্য তথ্য প্রকাশ করা হবে। প্রশাসনিক মহলের বক্তব্য, কেন্দ্রের কাছে বকেয়ার পাহাড় ক্রমেই উঁচু হচ্ছে। অব্যাহত বঞ্চনা। এই পরিস্থিতিতে ৯৪টি সামাজিক প্রকল্পে চালাচ্ছে রাজ্য। ফলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মোকাবিলায় ত্রাণ তহবিল গড়া একটি বড় পদক্ষেপ।