নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার বাংলায় বাম্পার ফলন হয়েছে আলুর। অভাবী বিক্রি ঠেকাতে রাজ্য সরকার চাষির কাছ থেকে সাড়ে ৯ টাকা কেজি দরে আলু কেনার কথা কদিন আগেই নবান্ন থেকে ঘোষণা করেছে। সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে এবার বিজ্ঞপ্তি জারি করল কৃষি বিপণন দপ্তর। সরকারি ব্যবস্থাপনায় আপাতত ৩১ মার্চ পর্যন্ত আলু কেনা হবে। প্রয়োজনে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আলু কেনার সময় আরো বাড়ানো হতে পারে। মোট ১২ লক্ষ টন জ্যোতি প্রজাতির আলু কেনার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। চাষিদের কাছ থেকে কেনা আলু হিমঘরগুলিতে সংরক্ষণের জন্য ৩০ শতাংশ জায়গা আগেই রাখা হয়েছে। একজন চাষি সর্বাধিক ৩৫ কুইন্টাল অর্থাৎ ৭০ বস্তা পর্যন্ত আলু সরকারের কাছে বেচতে পারবেন। রাজ্যে আলু চাষের প্রধান ১২টি জেলায় এই প্রকল্পটি কার্যকর হবে।
প্রকৃত চাষির কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যে আলুক্রয়ের দিকটি নিশ্চিত করবে প্রশাসন। আলু রাখার জন্য বিডিও অফিসে আবেদন করতে হবে। আগে আবেদন করার ভিত্তিতে এই সুযোগ মিলবে। কৃষকবন্ধু সার্টিফিকেট, বাংলা শস্যবিমার নথি, কিষান ক্রেডিট কার্ড, জমির নথি প্রভৃতি খতিয়ে দেখবে বিডিও অফিস। তারপর ঠিক করে দেওয়া হবে চাষি কোন হিমঘরে গিয়ে আলু বেচবেন। চাষির তালিকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে সংশ্লিষ্ট হিমঘরে। আলুর দাম চাষির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে।
সরকারি উদ্যোগে আলুক্রয়ে এবার ভালোই সাড়া মিলবে বলে ব্যবসায়ীরাও আশা করছেন। কারণ চাষিরা এখন মাঠে আলু বেচছেন মাত্র ৬ টাকা কেজি দরে। সেখানে হিমঘরে নিয়ে যাওয়া এবং আলুর প্যাকেজিং খরচা ধরলেও চাষির হাতে অন্তত ৮ টাকা ঢুকবে। ব্যবসায়ীরা মাঠ থেকে আলু কেনার পর এই খরচগুলি বহন করে থাকেন। প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির নেতা লালু মুখোপাধ্যায় জানান, সরকারের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলেই খোলাবাজারে আলুর দাম কিছুটা বাড়বে। তাতেও চাষির সুবিধা হবে। তবে কেনার প্রক্রিয়া সরল রাখার দাবি করেছেন তাঁরা।
সরকারি নির্ধারিত দামে আলু কেনার জন্য সমবায় ব্যাংক ও অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে হিমঘর মালিকদের ঋণের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে সরকার। আলু কেনার পর তা বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে ৭ জুন থেকে। প্রতি সপ্তাহে মজুতের অন্তত ৫ শতাংশ বেচতে হবে। প্রতি কুইন্টাল আলুর বন্ড ১১২০ টাকা দরে বিক্রয়ের কথা বলা হয়েছে। এতে ব্যাংকঋণের সুদ প্রভৃতি মেটানো ছাড়াও হিমঘর মালিকের ১০ শতাংশ লাভ থাকবে। বাজার দর কম থাকার দরুন এর থেকে কম দামে আলুর বন্ড বিক্রি করতে হলে হিমঘর মালিকের লোকসান রাজ্য সরকার পূরণ করে দেবে। রাজ্য সরকার নিজের প্রয়োজনে আলু কিনলে দাম দেবে কুইন্টাল প্রতি ১৫৭০ টাকা। হিমঘরের ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ ধরেই এটা নির্ধারিত হয়েছে।