সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টে অবধি মাটি বোঝাই ট্রাক্টর চলে গ্রামের রাস্তা দিয়ে। যার জেরে বেহাল দশা রাস্তার। নবদ্বীপ ব্লকের মায়াপুর পোস্ট অফিস মোড় থেকে গঞ্জডাঙা কালীতলা পর্যন্ত রাস্তার এই দশায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। পঞ্চায়েতকে বার বার আবেদন জানিয়েও সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের।
প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় তৈরি হয়েছিল প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তাটি। এখন পোস্ট অফিস মোড় থেকে শ্রীনাথপুর পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তা ভেঙে পাথর বেরিয়ে এসেছে। মায়াপুর-বামুনপুকুর ২ নম্বর পঞ্চায়েতের এই রাস্তাটি ধুবুলিয়ার বেলপুকুর, সাধনপাড়া ২ নম্বর পঞ্চায়েত হয়ে বেথুয়াডহরি গিয়ে মিশেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন অটো, টোটো, ট্রেকার সহ বিভিন্ন যানবাহনে ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন।
জেলা পরিষদের সদস্য তৃণমূলের আরজুবানু খাতুন বলেন, রাস্তাটি মেরামতির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। কিন্তু সুরাহা হয়নি। বর্ষার আগে রাস্তা সারাতে ফের আবেদন করব।
মায়াপুর-বামুনপুকুর ২ পঞ্চায়েতের প্রধান মৈত্রেয়ী ঘোষ বলেন, ২০০৫ সালে এই ঢালাই রাস্তাটি তৈরি হয়েছিল। তারপর আর সারানো হয়নি। রাস্তাটির দু’ ধারে নিকাশি নালা নেই। ফলে রাস্তায় জল জমছে। আমরা বিষয়টি জেলা পরিষদকে বার বার জানিয়েছি। বিডিওর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে মৌখিক ও লিখিতভাবে জানিয়েও লাভ হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন রাত থেকে ভোর পর্যন্ত মাটি বোঝাই ট্রাক্টর চলাচলে গ্রামের রাস্তার ক্ষতি হচ্ছে। তাছাড়া রাতভর ট্রাক্টরের শব্দে গ্রামবাসীদের ঘুমেরও দফারফা। ট্রাক্টর থেকে বালি ও মাটি রাস্তায় পড়ে বর্ষায় পিচ্ছিল হয়ে যাচ্ছে পথ। তাতে মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনাও ঘটছে।
এক গ্রামবাসী জানান, ভাগীরথী তীরবর্তী শংকরপুর থেকে চরের মাটি কেটে এই রাস্তা দিয়ে পাচার করা হয়। বিষয়টি স্থানীয় পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদের প্রতিনিধিদের জানানো হয়েছে। লাভ হয়নি। স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের একাংশ মাটি মাফিয়াদের মদত দিচ্ছে বলেও তাঁদের অভিযোগ।
নিদয়ার বাসিন্দা টোটো চালক প্রতাপ বিশ্বাস বলেন, টোটো একদম ঝরঝরে হয়ে গিয়েছে। অধিকাংশ দিনই টোটো সারাইয়ের পেছনে পয়সা খরচা করতে হচ্ছে। কবে রাস্তাটা ঠিক হবে কে জানে?
স্থানীয় ভারুই ডাঙার বাসিন্দা মায়াপুর ঠাকুর ভক্তিবিনোদ ইনস্টিটিউশনের নবম শ্রেণির গৌরসুন্দর ঘোষ ও শ্যামসুন্দর ঘোষ জানায়, সাইকেল নিয়ে জলকাদা ভরা রাস্তা দিয়েই স্কুলে যেতে হয়। এমন কিছু জায়গা আছে, যেখানে সাইকেলও চলে না, হেঁটে যেতে হয়।
শ্রীনাথপুরে বাসিন্দা শীতল ঘোষ ও ঝন্টু ঘোষ জানান, পোস্ট অফিস মোড় থেকে নিরঞ্জনগর সুইচ গেট পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ। বড় বড় গর্ত হয়ে গিয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে কিন্তু খুব কম সময়ে ধর্মদা মুড়াগাছায় যাওয়া যায়। এমনকী রাস্তার পাশে ড্রেন না থাকায় অনেক জায়গায় বৃষ্টি হলে জল দাঁড়িয়ে যাচ্ছে।
নবদ্বীপ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি কল্লোল কর বলেন, যদি এধরনের কোনও ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন। প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া দরকার। সবার আগে জনস্বার্থ, আমরা দেখব।