নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক পরিসরে পরিচিত এক নেতার কাছেই বীরভূম থেকে টাকা পৌঁছনোর কথা ছিল। যে ব্যবসায়ী ওই টাকা শাগরেদদের দিয়ে পাঠাচ্ছিলেন, কলকাতায় পৌঁছে তাঁর গ্রিন সিগন্যাল মিললেই ওই টাকার হাতবদল হত। নিউটাউনের আকাঙ্খা মোড়ে স্করপিও গাড়ি থেকে পাঁচ কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনার তদন্তে প্রাথমিকভাবে এই তথ্য পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। এই তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে। ভোটের কাজে ব্যবহারের জন্য, নাকি অন্য কোন বিষয় সমাধান করে দেবার জন্য টাকা পাঠানো হচ্ছিল, সেটাই জানার চেষ্টা হচ্ছে।
রবিবার আকাঙ্খা মোড়ে একটি গাড়ি থেকে নগদ পাঁচ কোটি টাকা উদ্ধার করে বেঙ্গল এসটিএফ। গ্রেপ্তার করা হয় আক্রাম খান ও ইমরান খান নামে দুই ব্যক্তিকে। জানা যায় বীরভূম থেকে এই টাকা নিয়ে আসা হচ্ছিল। ধৃতদের জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, বীরভূমে একাধিক বেআইনি বালি ও পাথরের খাদান রয়েছে। এই সিন্ডিকেটটি নিয়ন্ত্রণ করছেন সেখানকার এক ব্যবসায়ী। যাঁর আবার রাজনৈতিক পরিচয়ও রয়েছে। ওই ব্যবসায়ীর কাছে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা নগদ এসে পৌঁছয়। তা বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়। এই টাকা বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করা রয়েছে। কিছু টাকা হাওলা করে আবার অন্যত্র যায়। ওই ব্যবসায়ী গাড়িতে এই টাকা তুলে দেন। দুই শাগরেদের দায়িত্ব ছিল কেবল তা পৌঁছে দেওয়া। ব্যবসায়ী জানিয়েছিলেন, তিনি ফোন করে জানিয়ে দেবেন কোথায়, কার কাছে টাকা দিতে হবে। তাঁর নির্দেশ না আসা পর্যন্ত গাড়িটি নিয়ে ঘুরতে বলা হয়েছিল। শাগরেদদের বলা ছিল, নিউটাউন এলাকায় ঘুরে বেড়াতে। যাতে মুভেমেন্টের সুবিধা হয়। সেই কারণে তারা ওই এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল। কিন্তু কার হাতে টাকা দিতে হবে, তারা তা জানত না বলে দাবি। তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের মোবাইল ঘেঁটে ওই ব্যবসায়ীর নামও পেয়েছেন বলে খবর। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, বিরোধী রাজনৈতিক পরিসরে পরিচিত একজনের কাছে ওই টাকা যেত। এক্ষেত্রে প্রভাবশালী যোগ খুঁজে দেখা হচ্ছে। তদন্তে জানা যাচ্ছে, শুক্রবারও বীরভূমের ওই গাড়িটি শহরে এসেছিল। ঘুরে বেড়ায় মধ্য কলকাতায়। তদন্তকারীদের সন্দেহ, ওইদিনও টাকা নিয়ে এসেছিল। কিন্তু কোনও কারণে টাকা হস্তান্তর হয়নি। সেই গাড়িটি ফিরে গিয়েছিল সিউড়িতে। শনিবার আবার টাকা নিয়ে তা শহরে ঢোকে। তখনই ধরা পড়ে যায়।