Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মেধাতালিকায় হুগলির ছয় হাওড়ায় পাশের হার ৮৮.৭৫

হুগলি থেকে ছ’জন ছাত্র-ছাত্রী স্থান করে নিয়েছে রাজ্যের মেধাতালিকায়। প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার স্কুলের শিক্ষার্থীরা শহর এলাকার থেকে ভালো ফল করেছে। এ ঘটনা নজর কেড়েছে শিক্ষানুরাগী মহলের।

মেধাতালিকায় হুগলির ছয় হাওড়ায় পাশের হার ৮৮.৭৫
  • ৩ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: হুগলি থেকে ছ’জন ছাত্র-ছাত্রী স্থান করে নিয়েছে রাজ্যের মেধাতালিকায়। প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার স্কুলের শিক্ষার্থীরা শহর এলাকার থেকে ভালো ফল করেছে। এ ঘটনা নজর কেড়েছে শিক্ষানুরাগী মহলের। 

Advertisement

মেধাতালিকায় পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে পাণ্ডুয়ার ইটাচুনার মাখালডি গ্রামের দীপ্তজিৎ ঘোষ। তাঁর সঙ্গে পঞ্চম স্থান পেয়েছে আরামবাগ মহকুমার বাসিন্দা চৌধুরী মহম্মদ আসিফ ও সিঞ্চণ নন্দী। তারা ফলাফলের নিরিখে ছেলেদের মধ্যে সেরা ফল করেছে। অন্যদিকে মেধাতালিকায় নবম স্থানের সঙ্গে মেয়েদের মধ্যে প্রথম হয়েছে জাঙ্গিপাড়া বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী তানাজ সুলতানা। আরামবাগ মহকুমার আরও দু’জনের নাম রয়েছে তালিকায়।
হাওড়া জেলার কোনও শিক্ষার্থী এবার মাধ্যমিকের মেধাতালিকায় জায়গা পায়নি। পাশের গড় হারও সামান্য কম। পাশের হার ৮৮.৭৫ শতাংশ। হাওড়া জেলার মধ্যে সম্ভাব্য প্রথম দেবারতি মাজি। শ্যামপুর দ্বারকানাথ বালিকা বিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী ৬৮৫ নম্বর পেয়েছে। হুগলি জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ সুবীর মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা হবে। আরও ভালো ফল আমাদের প্রত্যাশিত ছিল।’ হুগলি জেলার মাধ্যমিক পরীক্ষার কনভেনার দেবাশিস বসু বলেন, ‘হুগলিতে ছেলেদের সাফল্যের হার ৯৪.২০ শতাংশ ও মেয়েদের ৯০.০৪ শতাংশ। সার্বিকভাবে পাশের হার ৮৯.৮৯ শতাংশ।’
৬৯১ নম্বর পেয়ে পঞ্চম স্থানাধিকারী ইটাচুনার দীপ্তজিৎ মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবা তরুণ ঘোষ এবং মা গৃহশিক্ষকতা করেন। দাদা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছেন। ছোট থেকে স্কুলে কখনও দ্বিতীয় হয়নি দীপ্তজিৎ। বাংলা, ইংরেজি ও জীবনবিজ্ঞানের জন্য গৃহশিক্ষক ছিল। বাকি বিষয়গুলি বাবা, মা ও স্কুলের শিক্ষকরা পড়িয়েছেন। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখে এই মেধাবী ছাত্র। এদিন ফলপ্রকাশের পর বলেছে, ‘আমি বাক্যহারা হয়ে গিয়েছিলাম। ভালো ফল করব জানতাম কিন্তু পঞ্চম হওয়ার কথা ভাবিনি।’ তার স্কুল শ্রীনারায়ণ ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক পল্লব পুরকায়েত বলেন, ‘ও বরাবরই মেধাবী। আমরা খুবই উল্লসিত। ও স্কুলের অন্য শিক্ষার্থীর প্রেরণা।’ এছাড়া জাঙ্গিপাড়ার নবম স্থানাধিকারী তানাজ সুলতানা পেয়েছে ৬৮৭ নম্বর। তানাজ পড়াশোনার পাশাপাশি ক্যারাটে শেখে। ও বলে, ‘ভবিষ্যতে চিকিৎসক হতে চাই। মনের আনন্দে পড়াশোনা করেছি। তাতেই ফল ভালো হয়েছে। আরামবাগের অয়ন নাগ রাজ্যে নবম স্থান পেয়েছে। জেলায় মেয়েদের মধ্যে দ্বিতীয় তথা রাজ্যে দশম স্থান পেয়েছে আরামবাগের অয়ন্তিকা সামন্ত।
অন্যদিকে, জেলায় সম্ভাব্য প্রথম হাওড়ার দেবারতি মাজি নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। তাঁর বাবা রতিকান্ত মাজি এক চিকিৎসকের গাড়ি চালান। মা তনুশ্রীদেবী অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে শিক্ষকতা করেন। দেবারতি বলে, ‘ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইচ্ছে। সেভাবেই পড়াশোনা করতে চাই।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ