শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: বসিরহাট মহকুমার সংখ্যালঘু প্রধান সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রেই অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে ‘বিচারধীন’ ভোটারের সংখ্যা। নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, এই সংখ্যা দু’লক্ষের কাছাকাছি। এই পরিসংখ্যান সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। কারণ, যে সব কেন্দ্রে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল বড়ো ব্যবধানে জিতেছে— সেইসব এলাকায় বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। ফলে, হঠাৎ করে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বিচারধীন হওয়ায় প্রশ্ন তুলছে শাসকদল।
জানা গিয়েছে, বসিরহাট মহকুমার সিংহভাগ ভোটার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। মুসলিম ভোটাররাই এখানে ‘ডিসাইডিং’ ফ্যাক্টর। বরাবর এই এলাকায় বিপর্যস্ত হয়েছে পদ্মশিবির। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, একারণেই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়াকেই ‘হাতিয়ার’ করেছে বিজেপি। তৃণমূলের অভিযোগ, বসিরহাটের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় এই প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কখনও ‘অনুপ্রবেশকারী’ আবার কখনও ‘রোহিঙ্গা’ তত্ত্ব তুলে এই এলাকাকে নিশানা করেছেন বিজেপির নেতারা। এসআইআরে ‘সেই প্রভাব’ খাটানোর চেষ্টা করেও লাভ না হওয়ায় অবশেষে গেরুয়া শিবির ‘বিচারাধীনদের’ ঢাল করে বাঁচতে চাইছে। শাসকদল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে বসিরহাট উত্তর কেন্দ্রে রেকর্ড ভোটে জিতেছিল তৃণমূল। ব্যবধান ছিল ৮৯ হাজার ৩৫১ ভোট। এখানে বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা ৪১ হাজার ৭০০। বাদুড়িয়ায় লিড ছিল ৫৬ হাজার ৪৪৪। এখানে বিচারাধীন ভোটার ১৯ হাজার ৪১ জন। মিনাখাঁয় শাসকদল জিতেছিল ৫৫ হাজার ৮৩০ ভোটে। এবার সেখানে বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা ৩৪ হাজার ৬১৫। যে সন্দেশখালি নিয়ে এত হইচই, সেখানে গতবার ৩৯ হাজার ৬৮৫ ভোটে জিতেছিল তৃণমূল। এই কেন্দ্রে বিচারাধীন ভোটার ২৫ হাজার ৫৬০। হিঙ্গলগঞ্জে ২৪ হাজার ৯১৬ ভোটে জয় পেয়েছিল ঘাসফুল শিবির। এখানে ১৩ হাজার ৮২৩ জন ভোটারের ভাগ্য ঝুলে আছে। বসিরহাট দক্ষিণে তৃণমূল কংগ্রেস ২৪ হাজার ৪৬৮ ভোটে জয়ী হয়েছিল। এখানে বিচারাধীন ভোটার রয়েছেন ২০ হাজার ১০৮। একুশে হাড়োয়ায় তৃণমূলের লিড ছিল ৮০ হাজার ৯৭৮। এখানে ঝুলে আছে ২৬ হাজার ৮৬৪ জন ভোটারের ভাগ্য। সব মিলিয়ে সাতটি বিধানসভায় বিচারাধীন ভোটার ১ লক্ষ ৮১ হাজার ৭১১ জন।
এ নিয়ে তৃণমূলের বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বুরহানুল মোকাদ্দিম বলেন, রোহিঙ্গা খোঁজার নাম করে এতদিন যে প্রচার চালানো হয়েছে, তার বাস্তব ভিত্তি পাওয়া যায়নি। এখন ভোটার তালিকাকে সামনে রেখে রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা হচ্ছে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় বিপুল সংখ্যক ভোটারকে বিচারাধীন রেখে তৃণমূলের ভোট বাক্সে ধাক্কা দিতে চেয়েছিল বিজেপি। কিন্তু তাদের সেই পরিকল্পনা ফলপ্রসূ হবে না। তারা সবটাই গেরুয়াকরণ করতে চাইছে। বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার যুব সভাপতি পলাশ সরকার পালটা বলেছেন, ভোটার তালিকা সংশোধন নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনেই হয়। ফলে এখানে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের প্রশ্ন নেই।