Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘একসঙ্গে’ চলার বার্তা! তৃণমূলের তুরুপের তাস বাদল-সপ্তর্ষি যুগল

বসিরহাট দক্ষিণে তৃণমূলের প্রচার এখন শুধু ভোটের লড়াই নয়, বার্তারও। সেই বার্তার কেন্দ্রে একসঙ্গে দুই মুখ— বিদায়ী বিধায়ক সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এবারের প্রার্থী সুরজিৎ মিত্র (বাদল)।

‘একসঙ্গে’ চলার বার্তা! তৃণমূলের  তুরুপের তাস বাদল-সপ্তর্ষি যুগল
  • ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: বসিরহাট দক্ষিণে তৃণমূলের প্রচার এখন শুধু ভোটের লড়াই নয়, বার্তারও। সেই বার্তার কেন্দ্রে একসঙ্গে দুই মুখ— বিদায়ী বিধায়ক সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এবারের প্রার্থী সুরজিৎ মিত্র (বাদল)। টিকিট বদলের পর যে অস্বস্তির গুঞ্জন উঠেছিল, তাকে চাপা দেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসাবে মাঠে নামানো হয়েছে এই ‘যুগল’কে। বার্তা স্পষ্ট— দলের ভিতরে ভাঙন নয়, নিয়ন্ত্রণেই আছে সমীকরণ। তবে, তৃণমূল প্রার্থী অবশ্য এক্ষেত্রে নীরব!

Advertisement

সকালের প্রচারেই ধরা পড়ছে কৌশল। দরজায় কড়া নেড়ে পৌঁছে যাচ্ছেন প্রার্থী। থাকছেন ‘চেনা মুখ’ সপ্তর্ষি। কোথাও বসে চা, কোথাও উঠোনে দাঁড়িয়ে কথাবার্তা—এই ‘ঘরোয়া’ রাজনীতির মধ্যেই তৈরি হচ্ছে ভোটের রসায়ন। স্থানীয় সমস্যা শোনা হচ্ছে, সঙ্গে শোনানো হচ্ছে সরকারি প্রকল্পের তালিকা। লক্ষ্য একটাই, ব্যক্তিগত যোগাযোগকে রাজনৈতিক সমর্থনে বদলে দেওয়া। বিকাল নামলেই বদলে যাচ্ছে সুর। পথসভায় চড়া হচ্ছে আক্রমণের তীব্রতা। কেন্দ্রীয় বঞ্চনাই হয়ে উঠছে প্রধান অস্ত্র। ১০০ দিনের কাজের বকেয়া, আবাস যোজনার অর্থ আটকে থাকা, গ্রামীণ উন্নয়নে অর্থ ছাঁটাই— প্রায় প্রতিটি বক্তৃতায় এই অভিযোগের পুনরাবৃত্তি। তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, দিল্লি ইচ্ছা করেই বাংলাকে বঞ্চিত করছে। এই ক্ষোভকেই ভোটে পরিণত করার হিসাব কষছে দল। এদিকে সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায়কে টিকিট না দেওয়া ইস্যুতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বসিরহাটের সভা থেকে তিনি জানিয়ে দেন, ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা হবে তাঁকে। সেই ঘোষণার পর থেকেই বদলাতে শুরু করে মাটির সমীকরণ। এখন আর প্রশ্ন নয়, বরং প্রদর্শন— ‘আমরা এক’। তাই প্রচারে সেই ছবিই বারবার তুলে ধরা হচ্ছে। তৃণমূলের একাংশের মতে, এতে কর্মীদের বিভ্রান্তি অনেকটাই কেটেছে। ভোটের আগে সংগঠনকে চাঙা রাখতে যা জরুরি। সেইসঙ্গে বাড়ানো হচ্ছে জনসংযোগের পরিসর। রাজনৈতিক মঞ্চের বাইরেও সক্রিয় প্রার্থী। ধর্মীয় অনুষ্ঠান, ক্লাবের অনুষ্ঠান, সামাজিক জমায়েত— সব জায়গাতেই পৌঁছে যাচ্ছেন বাদল। তবে, এনিয়ে সুরজিৎ মিত্রকে একাধিকবার ফোন করা হলেও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। হোয়াটসঅ্যাপেরও  প্রতিক্রিয়া দেননি তৃণমূলের এই প্রার্থী। তবে, সপ্তর্ষি জানালেন, আমি দলের একজন অনুগত সৈনিক হিসাবে কাজ করছি। ডোর টু ডোর প্রচারের পাশাপাশি বিকালে সভায় উপস্থিত থাকছি। দলের প্রার্থী ভালো মার্জিনে জিতবেন, এটা নিশ্চিত। তবে, বিজেপি নেতা পলাশ সরকার বলেন, মানুষ কেমন তৃণমূল প্রার্থীর সঙ্গে আছেন, তা এলাকায় গেলেই দেখতে পাবেন। নিজেদের দলের লোকই তাঁকে হারাবে। গ্রাম বা শহরে প্রচারে হাতেগোনা লোক ছাড়া থাকছে না।
সব মিলিয়ে, বসিরহাট দক্ষিণে তৃণমূলের কৌশল এখন দ্বিমুখী, কিন্তু সুস্পষ্ট। একদিকে অভ্যন্তরীণ ঐক্যের দৃশ্যমান প্রদর্শন, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার ইস্যুতে ধারালো রাজনৈতিক আক্রমণ। এই দুই সুর মিলিয়েই ভোটের ময়দানে চাপ বাড়াতে চাইছে ঘাসফুল শিবির।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ